হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলায় দোকানের পাওনা টাকাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। তুচ্ছ এই ঘটনার জেরে রণক্ষেত্রে পরিণত হয় এলাকা, যাতে নারী-পুরুষসহ অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন।
সোমবার (৩০ মার্চ) দুপুরে উপজেলার মুড়িয়াউক ইউনিয়নের সুনেশ্বর গ্রামে এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সুনেশ্বর গ্রামের দোকানদার জালাল মিয়ার কাছ থেকে মালামাল ক্রয় করেন রসম আলী। সোমবার পাওনা টাকা চাওয়া নিয়ে দুজনের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। দোকানদার জালালের দাবি, রসম আলীর কাছে তার ১৮৫ টাকা পাওনা রয়েছে। অন্যদিকে, ক্রেতা রসম আলীর দাবি, তিনি মাত্র ৩০ টাকা দেনা। মাত্র ১৫৫ টাকার এই অমিল নিয়ে শুরু হওয়া তর্কাতর্কি দ্রুতই উভয় পক্ষের স্বজন ও সমর্থকদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে।
একপর্যায়ে উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। ঘণ্টাব্যাপী চলা এই পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষে অন্তত ৫০ জন আহত হন। আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত লাখাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং হবিগঞ্জ জেলা সদর আধুনিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গুরুতর আহত কয়েকজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেটে পাঠানো হতে পারে বলে জানা গেছে।
খবর পেয়ে লাখাই থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে ওই এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
হবিগঞ্জ সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শহিদুল হক মুন্সী জানান, “পাওনা টাকা নিয়ে সামান্য বিরোধ থেকে এই সংঘর্ষের সূত্রপাত। বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এলাকায় শান্তি রক্ষায় পুলিশ তৎপর রয়েছে এবং অভিযোগ প্রাপ্তি সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
সামান্য কয়েক টাকার জন্য এমন ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।