স্মৃতিসৌধে ফুল দেওয়াসহ মিছিল-স্লোগানের ঘটনায় সুনামগঞ্জে আওয়ামীপন্থী ২৭ জন আইনজীবীর নাম উল্লেখ করে মামলা হয়েছে। মামলায় অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে আরও ৫০ থেকে ৬০ জন।
এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাতে পুলিশ দুই আইনজীবীকে গ্রেপ্তার করেছে। আজ শুক্রবার জুমার নামাজের পর তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজের সাবেক ভিপি ও সাবেক পৌর কাউন্সিলর অ্যাডভোকেট মনীষ কান্তি দে মিন্টু ও জেলা ছাত্রলীগের সাবেক আইনবিষয়ক সম্পাদক ও বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের সদস্য মিজানুর রহমান শামীম।
সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের করা মামলার বাদী সুনামগঞ্জ কোর্টের উপপরিদর্শক (এসআই) আনোয়ারুল হক। এজহারে আসামি হিসেবে ২৭ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযুক্তরা সবাই আইনজীবী। বৃহস্পতিবার সকালে স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে শহরের মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিসৌধে মিছিল ও স্লোগানসহ বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের ব্যানারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন তাঁরা।
মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করে সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রতন শেখ বলেন, যাঁরা স্মৃতিসৌধে মিছিল করেছেন, স্লোগান দিয়েছেন মামলায় তাদের সবাইকে আসামি করা হয়েছে।
জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান সুনামগঞ্জ বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের সদস্যরা। তাঁরা মিছিল নিয়ে আদালত চত্বরে থাকা স্মৃতিসৌধে যান। সেখানে স্লোগান দিয়ে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।মিছিলে ২৩ থেকে ৩০ জন আইনজীবী ছিলেন। এর মধ্যে জেলা আওয়ামী লীগের পদধারী কয়েকজন নেতাও ছিলেন। এসময় তাঁরা ‘জয়বাংলা-জয় বঙ্গবন্ধুসহ নানা স্লোগান দেন। পরে মিছিল, স্লোগানের ভিডিও ও ছবি ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।
পুলিশের একটি সূত্র জানায়, দায়েরকৃত মামলায় জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি অ্যাডভোকেট খায়রুল কবির রুমেন, যুগ্ম সম্পাদক অ্যাডভোকেট হায়দার চৌধুরী লিটন, সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম, শান্তিগঞ্জের যুবলীগ সভাপতি ও সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজের সাবেক ভিপি অ্যাডভোকেট বোরহান উদ্দিন দোলন, আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ ও আওয়ামী লীগের নেতা বিমান রায়, নুরে আলম সিদ্দিকী উজ্জ্বল, শুকুর আলী, হাসান মাহবুব সাদী, পঙ্কজ তালুকদারসহ ২৭ জন আইনজীবীর নাম রয়েছে।