বছর ঘুরে আসে ঈদ, দীর্ঘ এক মাসের সিয়াম সাধনার শেষে মানুষ ঈদ উৎযাপনে ব্যবস্থ থাকে। এমন ব্যস্ততার মাঝেও তাদের হারানো প্রিয়জনদের কথা ভুলে যান নি তারা। প্রতি ঈদের নামাজ শেষে স্বজনদের কবর জিয়ারত ঈদের দিনে এক চিরায়ত দৃশ্য। প্রতি ঈদেই প্রয়াত স্বজনের স্মরণে শত শত লোক ছুটে যান স্থানীয় কবর গুলোতে। দোয়া-দরুদ পাঠ সহ দান-সদকার মাধ্যমে কবরবাসীর কাছে নেকি পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করেন তারা।
কেউ বাবা হারিয়েছেন, আবার কেউ মা, কেউ হারিয়েছেন সন্তান, কেউ হারিয়েছেন ভাই-বোন সহ আত্মীয়-স্বজন। ঈদের নামাজ শেষে ৫ টি গ্রামের মানুষ ছুটে আসেন প্রয়াতদের কবর জিয়ারতে জামালগঞ্জ সদর ইউনিয়নের কাশিপুর কবরস্থানে। অন্তিমশয়নে থাকা স্বজনদের জন্য মন ভরে দোয়া করেন। যারা বেঁচে আছেন তাদের জন্যও দোয়া করেন। কাশিপুর কবরস্থান অত্র এলাকার পরিচিত কবরস্থান। এই কবরস্থানে ঈদের নামাজ পড়ে শত শত মানুষ ছুটে আসেন কবরবাসীদের স্মরণে। অনেকে এসেছেন তাদের ছোট ছোট শিশুদের নিয়ে।
বাবা-মায়ের কবর জিয়ারতে সন্তানদের নিয়ে এসেছেন আব্দুস সালাম। তিনি বলেন, প্রত্যেক বছর রমজানের ৩০টি রোজা রেখে, দান-খয়রাত করার কারণে আল্লাহ তাআ'লা যেন আমার পিতা-মাতাকে মাফ করে দেন। সন্তানকে সঙ্গে কবর জিয়ারতে আসা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটা পারিবারিক শিক্ষা। সন্তানদের সঙ্গে করে নিয়ে আসলে তারা দেখে আমি আমার পিতা-মাতার মৃত্যুর পর কিভাবে ভালবাসা প্রকাশ করছি। তারাও যেন আমাদের মৃত্যুর পর নিয়মিত কবর জিয়ারত করতে আসে। আমার মতো হয়তো তারা দেখতে পারবে না। কিন্তু আমরা কবর থেকে নিশ্চিত সন্তানদের দোয়া আশা করবো।
সদ্য পিতা হারানো যুবক রাকিব হাসান বলেন দেড় মাস আগে আব্বু মারা গেছেন। আব্বু থাকতে ঈদে একটা আনন্দ ছিল। ঈদের আগে কত আনন্দের আয়োজন ছিল। এবার সেরকম কিছু হয়নি। খুবই খারাপ লাগছে। এর আগে কখনো এরকমটা কখনো অনুভব করিনি। আব্বুকে মনে করেই কবর জিয়ারতে আসছি।
কবরস্থানে দাঁড়িয়ে মোবাইলে জিয়ারতে আসা মামুন তার ভাইকে ফোনে জানান, নামাজ পড়ে কবরস্থানে মা'র কবর জিয়ারতে আসছি। কবর জিয়ারত করে তোমার বাড়িতে আসবো।
তাদের মতো কাশিপুর কবরস্থানে শত শত লোক নামাজ পড়ে স্বজনদের কবর জিয়ারতে ছুটে আসেন। কেউ আসেন স্ব-পরিবারে, কেউ আসেন একা। নিরবে নিবৃত্তে দাঁড়িয়ে সূরা পাঠ করছেন। আবার কেউ কেউ দু-হাত তুলে স্বজনদের স্মরণে কান্নায় মোনাজাত করছেন।
কাশিপুর কবরস্থান কমিটির সদস্য সচিব মোঃ ইয়ার আলী জানান, এ কবরস্থানটি দেড় শত বছর পুরনো। এলাকার প্রায় ৫ টিকে গ্রামের লোকজন এই কবরস্থানে তাদের আত্মীয়-স্বজন শায়িত আছেন।
প্রায় ২ যুগ ধরে এই কবরস্থানে প্রতিটি গ্রাম থেকে ঈদের নামাজ আদায় করে তাদের আত্মীয় স্বজনকে স্মরণ করে তাদের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালবাসায় কোরআন তেলাওয়াত ও দোয়া পাঠ করতে ঈদের নামাজ শেষে শত শত লোকজন ছুটে আসেন কবর জিয়ারতে। এই কবরস্থানের চারপাশে ১ হাজার গাছ লাগানো হয়েছে। বিগত ঘুর্ণিঝড়ে আড়াইশত গাছ হেলে পড়ে। আমরা কবরস্থান কমিটি গাছগুলোকে পুনরায় সোজা করে বাঁশ দিয়ে রক্ষা করছি।