সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলায় একটি পোল্ট্রি ফার্ম থেকে সুমন আহমদ (১৭) নামে এক কিশোরের জবাই করা লাশ উদ্ধারের ঘটনায় মূল অভিযুক্তসহ দুজনকে আটক করেছে পুলিশ ও ডিবি।
আটককৃতদের মধ্যে একজন পোল্ট্রি ফার্মের মালিক এবং অন্যজন এই হত্যাকাণ্ডের প্রধান অভিযুক্ত।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) রাত আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের নারায়ণপুর ৩য় খণ্ড এলাকার একটি পোল্ট্রি ফার্মে কিশোর সুমনের রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন।
খবর পেয়ে গোয়াইনঘাট থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহতের লাশ উদ্ধার করে। নিহত সুমন আহমদ পার্শ্ববর্তী বানিগ্রাম এলাকার আনোয়ার মিয়ার ছেলে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, উদ্ধারের সময় নিহতের মুখ বাঁধা ছিল এবং তাকে অত্যন্ত নৃশংসভাবে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। এছাড়া ঘটনাস্থলের পাশেই একটি নতুন গর্ত বা কবর খোঁড়া অবস্থায় পাওয়া গেছে।
স্থানীয়দের ধারণা, সুমনকে হত্যার পর লাশটি গোপনে মাটিচাপা দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল খুনিদের।
ঘটনার পরপরই গোয়াইনঘাট-কোম্পানীগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল নোমান এবং গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামানসহ পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
পুলিশ জানায়, ঘটনার তদন্তে নেমে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ৪টার দিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পোল্ট্রি ফার্মের মালিক মুস্তাকিম আলীকে আটক করা হয়।
পরবর্তীতে শুক্রবার সন্ধ্যায় সিলেট মহানগরীর আম্বরখানা এলাকা থেকে হত্যাকাণ্ডের প্রধান অভিযুক্ত ও মুস্তাকিমের ভাই আশফাককে আটক করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, "সুমন হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ইতিমধ্যে দুজনকে আটক করা হয়েছে। প্রধান অভিযুক্ত আশফাক বর্তমানে ডিবি হেফাজতে রয়েছে, তাকে দ্রুতই থানায় হস্তান্তর করা হবে। পুরো ঘটনাটি আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করছি এবং এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"