বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬
বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬
✔ বাংলা টেক্সট কনভার্টার
শিরোনাম
advertisement
সিলেট বিভাগ

বিদেশ-ফেরত নারীদের অধিকার সুরক্ষায় চাই সংবেদনশীলতা

নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করতে বিদেশ যাওয়ার আগে সঠিক তথ্য জানা, ভাষা শিক্ষা গ্রহণ ও দক্ষতা অর্জন অপরিহার্য। একইভাবে বিদেশ-ফেরত অভিবাসীদের দেশে পুনর্বাসন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতে সরকার এবং উন্নয়ন সংস্থাগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন বক্তারা।

বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ ২০২৬) সকালে সিলেট নগরীর একটি অভিজাত হোটেলে আয়োজিত এক কর্মশালায় এসব কথা বলা হয়। ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের ‘ইমপ্রুভড সাসটেইনেবল রিইন্টিগ্রেশন অব বাংলাদেশি রিটার্নি মাইগ্রেন্টস (প্রত্যাশা-২)’ প্রকল্পের আওতায় অংশীজনদের নিয়ে এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিলেটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (উন্নয়ন ও মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা) পদ্মাসন সিংহ বলেন, বিদেশ-ফেরত নারী ও শিশুদের অধিকার সুরক্ষা এবং তাদের টেকসই পুনরেকত্রীকরণ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আরও সংবেদনশীল হতে হবে। দক্ষতা নিয়ে বিদেশ গেলে যেমন সম্মান ও আয় বাড়ে, তেমনি দেশে ফিরে সেই দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা সম্ভব। এ ক্ষেত্রে উন্নয়ন সংস্থার পাশাপাশি বেসরকারি খাতকেও এগিয়ে আসতে হবে।

ব্র্যাকের জেলা সমন্বয়ক মো. আরিফুল ইসলামের স্বাগত বক্তব্যের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের প্রধান কার্যালয়ের সিনিয়র অফিসার তানজিনা সুলতানা সেঁজুতি। কর্মশালার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য তুলে ধরেন ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের প্রধান কার্যালয়ের ম্যানেজার আতিকুর রহমান নাহিদ।

আলোচনায় বক্তারা বিদেশ থেকে খালি হাতে ফিরে আসা অভিবাসীদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জগুলো তুলে ধরেন এবং এসব সমস্যা সমাধানে স্থানীয় প্রশাসনের সক্রিয় ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সিলেটের মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শাহিনা আক্তার এবং সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. আব্দুর রফিক। এছাড়াও ব্র্যাকের বিভাগীয় ব্যবস্থাপক রিপন চন্দ্র মন্ডলসহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের রিজিওনাল এমআরএসসি কো-অর্ডিনেটর নূরুল ইসলামের সঞ্চালনায় আয়োজিত কর্মশালায় আইনজীবী, বিভিন্ন সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, গণমাধ্যমকর্মী এবং বিদেশ-ফেরত অভিবাসীরা তাদের অভিজ্ঞতা ও মতামত তুলে ধরেন।

কর্মশালার শেষপর্যায়ে প্রধান অতিথি ‘প্রত্যাশা-২’ প্রকল্পের দুজন উপকারভোগীর হাতে পুনর্বাসনের লক্ষ্যে আর্থিক সহায়তার চেক তুলে দেন।

উল্লেখ্য, বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাক ১৯৭২ সাল থেকে মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে। ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম ২০০৬ সাল থেকে নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিতকরণ, মানবপাচার রোধে সচেতনতা বৃদ্ধি, বিদেশফেরতদের পুনরেকত্রীকরণ এবং প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও অ্যাডভোকেসি কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।

এই সম্পর্কিত আরো