সিলেটের কানাইঘাট উপজেলায় আইনের তোয়াক্কা না করে অবৈধভাবে আবাদি জমির উপরিভাগের মাটি কাটার হিড়িক পড়েছে। এতে আশঙ্কাজনক হারে কমে যাচ্ছে কৃষিজমি এবং ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে গ্রামীণ সড়কসহ পরিবেশ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার পৌরসভাসহ ৯টি ইউনিয়নের বিভিন্ন ফসলি জমি থেকে শতাধিক এক্সকাভেটর (ভেকু) ও ফেলুডার দিয়ে নির্বিচারে মাটি কাটা হচ্ছে। এসব মাটি ডাম্প ট্রাক ও নিষিদ্ধ ট্রাক্টরের মাধ্যমে বিভিন্ন বসতবাড়ি, রাস্তা-ঘাট ও পুকুর ভরাটে সরবরাহ করা হচ্ছে। স্থানীয় প্রভাবশালী রাজনৈতিক চক্র, কিছু জনপ্রতিনিধি, ট্রাক মালিক ও চালকদের যোগসাজশে এই অবৈধ কার্যক্রম চলছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এভাবে জমির টপসয়েল কেটে নেওয়ায় জমির শ্রেণি পরিবর্তন হয়ে যাচ্ছে, ফলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে ফসল উৎপাদন মারাত্মকভাবে কমে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে শত শত ভারী ট্রাক ও ট্রাক্টরের চলাচলে কানাইঘাটের সরু পাকা গ্রামীণ সড়ক ভেঙে বেহাল দশায় পরিণত হচ্ছে এবং কাঁচা সড়ক দেবে যাওয়ার পাশাপাশি প্রধান সড়কগুলোও মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়ছে।
নির্বিচারে মাটি কাটা ও পরিবহনের ফলে আশপাশের ঘরবাড়ি এবং সরকারি রাস্তাঘাট ঝুঁকিতে পড়ছে। পাশাপাশি ধুলোবালিতে পরিবেশ মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে। বেপরোয়া ট্রাক ও ট্রাক্টরের চলাচলের কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। সম্প্রতি মাটি বহনকারী একটি ট্রাক্টরের চাকায় পিষ্ট হয়ে এক স্কুল শিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে।
জানা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পৌর এলাকায় প্রভাবশালী মাটি খেকো চক্রের যোগসাজশে এই অবৈধ মাটি কাটার কার্যক্রম চলছে। এতে করে সংশ্লিষ্টরা রাতারাতি বিপুল অর্থের মালিক হয়ে উঠছেন বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। এ নিয়ে প্রতিবাদ করলেও প্রতিকার পাচ্ছেন না সাধারণ মানুষ।
সম্প্রতি উপজেলার রাজাগঞ্জ ইউনিয়নে পরিবেশের ক্ষতি করে মাটি কাটার প্রতিবাদে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী একটি ফেলুডার পুড়িয়ে দেন। অভিযোগ রয়েছে, দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ফেলুডার ও এক্সকাভেটর ভাড়া এনে মাটি খেকো চক্র তাদের অবৈধ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে।
এদিকে উপজেলা প্রশাসন মাঝে মধ্যে অভিযান চালিয়ে কিছু ফেলুডার ও এক্সকাভেটর আটক করে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করলেও পরিস্থিতির তেমন উন্নতি হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, প্রশাসনের কঠোর নজরদারি না থাকায় এই অবৈধ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
এ বিষয়ে কানাইঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহদী হাসান শাকিল বলেন, বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন অনুযায়ী কৃষিজমির টপসয়েল কাটা দণ্ডনীয় অপরাধ এবং এর জন্য দুই বছরের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। জমির শ্রেণি পরিবর্তনের ক্ষেত্রেও পূর্ব অনুমোদন প্রয়োজন। এছাড়া গ্রামীণ সরু সড়কে ডাম্প ট্রাক চলাচল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
তিনি আরও জানান, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে কয়েকটি অভিযান পরিচালনা করে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এ অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।