সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জে ঠেলাগাড়ি চালক আব্দুল হামিদ (৪৯) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে। পরকীয়া সম্পর্ক ও বিয়ের প্রলোভনকে কেন্দ্র করে স্ত্রী, শালিকা ও তার প্রেমিকের পরিকল্পনায় এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় এক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত চালিয়ে মো. সাদিকুর রহমান (৩৯) নামে এক আসামিকে শুক্রবার রাত ৮টা ৫ মিনিটে জামালগঞ্জ সদর ইউনিয়নের নয়াহালট (মাঝহাটি) এলাকার নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১ মার্চ ইফতারের পর সন্ধ্যা ৭টার দিকে ঠেলাগাড়ি নিয়ে বাসা থেকে বের হন আব্দুল হামিদ। এরপর তিনি আর বাড়ি ফেরেননি। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজির পরও তার সন্ধান পাননি। পরে ৫ মার্চ জামালগঞ্জ উপজেলার ভীমখালী ইউনিয়নের তেরানগর ব্রিজের দক্ষিণ পাশে লক্ষীপুর বাজারগামী সড়কের পাশের একটি ধানক্ষেতে তার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে এবং মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। সুরতহালে নিহতের মাথায় আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়। পরে নিহতের ভাই জুয়েল মিয়া বাদী হয়ে জামালগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
পুলিশ জানায়, তদন্তে জানা যায় অটোরিকশা চালক সাদিকুর রহমানের সঙ্গে নিহত আব্দুল হামিদের পরিচয় ও ঘনিষ্ঠতা ছিল। সেই সূত্রে নিহতের শালিকা রংমালার সঙ্গে সাদিকুর রহমানের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে রংমালাকে বিয়ে করার জন্য সাদিকুরকে উৎসাহ দেন নিহতের স্ত্রী নুরেজা বেগম। এজন্য স্বামীকে সরিয়ে দিতে পরিকল্পনা করা হয় বলে এজাহারে উল্লেখ রয়েছে।
প্রায় ১৫–১৬ দিন আগে তারা আব্দুল হামিদকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী ১ মার্চ রাতে জামালগঞ্জ বাজারে ইফতারের পর সাদিকুর রহমান আব্দুল হামিদকে প্রলোভন দেখিয়ে অটোরিকশায় করে তেরানগর ব্রিজের কাছে একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যান। সেখানে তিনি প্রস্রাব করতে বসলে অটোরিকশার সিটের নিচে রাখা কাঠের বর্গা দিয়ে তার মাথায় আঘাত করেন। এতে ঘটনাস্থলেই তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে মরদেহ পাশের ধানক্ষেতে ফেলে রেখে পালিয়ে যান বলে জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এ ঘটনায় আরও কয়েকজন জড়িত থাকার বিষয়টি তদন্ত করছে পুলিশ।
জামালগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বন্দে আলী জানান, প্রাথমিক তদন্তে হত্যাকাণ্ডে জড়িত মো. সাদিকুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত থাকলে তাদেরও আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।