সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার জাফলং পর্যটন কেন্দ্রে সরকারি খাস জমি জোরপূর্বক দখল করে দোকানপাট নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় প্রভাবশালী মাওলানা কুদ্দুসের বিরুদ্ধে। নির্বাচনের পরবর্তী সময়ে প্রশাসনের ব্যস্ততার সুযোগ নিয়ে তিনি ও তাঁর বাহিনী এই দখলদারিত্ব চালিয়ে যাচ্ছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
সরেজমিন দেখা গেছে, জাফলং জিরো পয়েন্ট ও বিজিবি ক্যাম্প সংলগ্ন এলাকায়, যেখান থেকে পর্যটকরা জাফলংয়ের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করেন, সেখানে সারিবদ্ধভাবে ৮ থেকে ১০টি দোকান নির্মাণ করা হয়েছে। রাতের আঁধারে অবৈধভাবে এসব স্থাপনা তৈরি করায় সাধারণ পর্যটকদের চলাচলে বিড়ম্বনা সৃষ্টির পাশাপাশি জাফলংয়ের সৌন্দর্যও হুমকির মুখে পড়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নলজুড়ি এলাকার মৃত মুজিত মিয়ার ছেলে মাওলানা কুদ্দুস ও তাঁর বাহিনী দীর্ঘদিন ধরে জাফলংয়ের ভাসমান দোকানগুলো থেকে নিয়মিত চাঁদাবাজি করে আসছে। এই দখলদারিত্বের পেছনে ভূমি কার্যালয়ের জনৈক কথিত এক কর্মকর্তাকে প্রায় ৭ লক্ষ টাকা ঘুষ দেওয়া হয়েছে বলেও গুঞ্জন রয়েছে। শুধু তাই নয়, এসব অবৈধ দোকানে চোরাচালানের পণ্য মজুত করা হয় এবং খোদ কুদ্দুস এই চোরাচালান চক্রের সাথে জড়িত বলে অভিযোগ উঠেছে।
একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, ইতিপূর্বে মাওলানা কুদ্দুসের চাঁদাবাজি ও দখলবাজি নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলেও উপজেলা প্রশাসন কার্যকর কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় কুদ্দুস বাহিনী আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। তারা দ্রুত এই অবৈধ দখল উচ্ছেদ ও দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে মাওলানা কুদ্দুসের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।
এ বিষয়ে গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রতন কুমার অধিকারী বলেন, বিষয়টি আমি অবগত হয়েছি। ভূমি অফিসের কেউ এর সাথে জড়িত আছে কি না তা আমার জানা নেই। তবে যারা সরকারি জমি দখল করে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করেছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ওমর ফারুক বর্তমানে জরুরি কাজে ঢাকায় ছুটিতে রয়েছেন বলে জানা গেছে।
গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান জানান, দখল বা চাঁদাবাজির সাথে যারাই জড়িত থাকুক, তদন্ত সাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জাফলংয়ের সৌন্দর্য রক্ষা এবং সাধারণ পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের দ্রুত ও কার্যকর অভিযান প্রত্যাশা করছেন সচেতন মহল।