সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলায় একটি অজ্ঞাত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পরে নিখোঁজের চার দিন পর ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশটি নিজের স্বামীর বলে শনাক্ত করেন এক নারী। নিহত ব্যক্তির নাম আব্দুল হামিদ (৫৩) বলে নিশ্চিত করেছে তার পরিবার।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকালে জামালগঞ্জ উপজেলার ভীমখালি ইউনিয়নের তেরানগর এলাকায় রাস্তার পাশে একটি লাশ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা থানায় খবর দেন। খবর পেয়ে তাহিরপুর-জামালগঞ্জ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার প্রণয় রায় এবং জামালগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বন্দে আলীর নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে।
এদিকে একই দিন সকালে তেলিয়া লামাপাড়া এলাকার বাসিন্দা নূরেজা বেগম (৩০) স্বামী নিখোঁজের চার দিন পর জামালগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে যান। তিনি পুলিশকে জানান, তার স্বামী আব্দুল হামিদ কয়েকদিন ধরে নিখোঁজ রয়েছেন। তার দেওয়া শারীরিক বর্ণনার সঙ্গে উদ্ধার হওয়া লাশের বিবরণ মিলে গেলে পুলিশ তাকে ঘটনাস্থলে নিয়ে যায়। সেখানে গিয়ে তিনি লাশটি তার স্বামী আব্দুল হামিদের বলে শনাক্ত করেন।
নিহত আব্দুল হামিদের গ্রামের বাড়ি বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ফতেহপুর ইউনিয়নের সংগ্রামপুর গ্রামে। তবে তিনি বর্তমানে জামালগঞ্জ উপজেলার তেলিয়া লামাপাড়া এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।
নিহতের স্ত্রী নূরেজা বেগম জানান, তার স্বামী সহজ-সরল প্রকৃতির মানুষ ছিলেন এবং কারও সঙ্গে তার কোনো শত্রুতা ছিল না। তাদের পরিবারে দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। সন্তানদের ভাষ্য অনুযায়ীও পারিবারিক কোনো বিরোধ ছিল না।
ভীমখালি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আখতারুজ্জামান তালুকদার বলেন, স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে যান। লাশের অবস্থা দেখে তার ধারণা, মৃত্যুর ঘটনা প্রায় পাঁচ থেকে ছয় দিন আগে ঘটতে পারে। তিনি আরও বলেন, অন্য কোথাও হত্যার পর অর্ধগলিত লাশটি রাতের আঁধারে এই এলাকায় ফেলে রেখে যেতে পারে দুর্বৃত্তরা।
তাহিরপুর-জামালগঞ্জ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার প্রণয় রায় জানান, প্রাথমিকভাবে লাশের পরিচয় শনাক্ত হয়েছে। ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা এবং আলামত সংগ্রহ করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।