নবীগঞ্জ উপজেলার শেরখাই ও নরখাই নদীর সরকারি খাল খনন প্রকল্পের মাটি ব্যবহার করে নিজের বাড়ির পুকুর ভরাটের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান কাজলের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তুলেছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
জানা গেছে, নবীগঞ্জ উপজেলার দীঘলবাঁক ইউনিয়নের কামারগাঁও এলাকায় শেরখাই ও নরখাই নদীর জাইকা প্রকল্পের আওতায় খাল খনন কাজ শুরু হলে প্রকল্পের মাটি বিক্রি ও সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। স্থানীয়দের দাবি, প্রকল্প এলাকার আশপাশে মাটি না রেখে তা বিভিন্ন স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকাকালে দলীয় প্রভাব খাটিয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান কাজল প্রায় ১০ থেকে ১৫ হাজার বর্গফুট মাটি নিয়ে নিজের বাড়ির একটি বড় পুকুর ভরাট করেন। এছাড়া প্রকল্পের কাজে কমিশন নেওয়ার অভিযোগও করেছেন স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা।
স্থানীয় যুবক জাবেদ আলী বলেন, “কাজল নিজেকে এলাকায় প্রভাবশালী দাবি করতেন। তিনি বলতেন তাকে ছাড়া এলাকায় কোনো কাজ করা সম্ভব নয়। প্রকল্পের কাজে কমিশন নিয়েও তিনি প্রভাব খাটিয়েছেন।”
এ বিষয়ে মুজিবুর রহমান কাজলের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক মন্তব্যে তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশে কটূক্তি করেন এবং অভিযোগ অস্বীকার করেন।
এ ব্যাপারে নবীগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী মীর সাব্বির আহমদ বলেন, “সরকারি প্রকল্পের মাটি অন্যত্র নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। বিষয়টি আমরা গণমাধ্যমে দেখেছি। সরেজমিন তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
উল্লেখ্য, নবীগঞ্জ উপজেলার দীঘলবাঁক ইউনিয়নের কামারগাঁও এলাকায় শেরখাই ও নরখাই নদীর জাইকা প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৬ কোটি ১২ লাখ টাকা ব্যয়ে খাল খননের কাজ শুরু হয়। অতীতে এই প্রকল্পে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠায় কিছুদিন কাজ বন্ধ থাকার পর সম্প্রতি পুনরায় কার্যক্রম শুরু হয়েছে।