শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেছেন, সিলেটে অবৈধভাবে বালুমহাল চালু রাখা এবং পাথর কোয়ারি থেকে পাথর উত্তোলন কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না। পরিবেশ ও জনস্বার্থ রক্ষায় এ ব্যাপারে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে। কেউ যদি এই অবৈধ কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয়, তবে তাকে তাৎক্ষণিক আটক করে পুলিশের হাতে সোপর্দ করার জন্য তিনি স্থানীয়দের প্রতি আহ্বান জানান।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সিলেটের গোয়াইনঘাট ও জৈন্তাপুর উপজেলা পরিষদে আয়োজিত পৃথক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
গোয়াইনঘাট উপজেলা পরিষদ হলরুমে আয়োজিত সভায় মন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের সময় আমি আপনাদের যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, তা অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করা হবে। আগামী মার্চ মাস থেকেই উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোর উন্নয়ন কাজ শুরু হবে। এছাড়া চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে ৫০ শয্যাবিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কার্যক্রম পূর্ণাঙ্গভাবে চালু এবং নিয়মিত চিকিৎসকের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হবে। তিনি আরও জানান, উপজেলার খাল খননসহ শহরের আদলে দৃষ্টিনন্দন ওয়াকওয়ে নির্মাণের কাজ দ্রুত শুরু করা হবে।
এর আগে দুপুরে জৈন্তাপুর উপজেলা পরিষদে আয়োজিত সভায় মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী পানি সম্পদ মন্ত্রীকে সিলেটের খালগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে খননের অনুরোধ জানিয়ে বলেন, শুষ্ক মৌসুমে পানির অভাবে চাষাবাদ ব্যাহত হয়। তাই পানি সংরক্ষণে খাল খনন ও স্লুইস গেট নির্মাণ জরুরি। বিশেষ করে জৈন্তাপুরের ঐতিহ্যবাহী শাপলা বিলের সৌন্দর্য রক্ষা ও পর্যটকদের সুবিধার জন্য সেখানে বাঁধ সংস্কার এবং একটি মানসম্মত রেস্ট হাউস নির্মাণ করা প্রয়োজন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পানি সম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বলেন, সিলেট দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন এলাকা। পর্যটন শিল্পের বিকাশে এ অঞ্চলের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও সৌন্দর্যবর্ধন জরুরি। সরকার জনগণের প্রয়োজন বিবেচনা করে অগ্রাধিকারভিত্তিতে প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে।
তিনি আরও বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান খাল খনন কর্মসূচিকে একটি সামাজিক আন্দোলনে রূপ দিয়েছিলেন, যার ফলে কৃষি ও মৎস্য উৎপাদন বহুগুণ বেড়েছিল। বর্তমান সরকারও সেই ধারায় খাল খনন কার্যক্রমের মাধ্যমে বাংলাদেশকে স্বনির্ভর করতে কাজ করছে।
শনিবার সকালে শ্রম মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, পানি সম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি এবং বাণিজ্য, শিল্প ও বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির সিলেটের বিভিন্ন এলাকায় চলমান খাল খনন কার্যক্রম সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। তারা উন্নয়ন প্রকল্পের গুণগত মান বজায় রাখার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কড়া নির্দেশ দেন।
গোয়াইনঘাট ও জৈন্তাপুরে আয়োজিত পৃথক সভাগুলোতে সভাপতিত্ব করেন যথাক্রমে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রতন কুমার অধিকারী এবং মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. এ. কে. এম শাহাবুদ্দিন, সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলমসহ বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সাংবাদিকবৃন্দ।
সভায় বক্তারা সিলেটের প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষা এবং পর্যটন ও কৃষি খাতের সমন্বিত উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।