সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা-এ অবৈধ পাথর উত্তোলনকারী সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। প্রশাসনের স্থাপিত বেষ্টনী উপড়ে ফেলা, পুলিশের হেফাজত থেকে আটক গাড়ি ছিনিয়ে নেওয়া এবং সংবাদ সংগ্রহে গিয়ে সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় এলাকায় চরম উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী চক্র প্রশাসনের চোখের সামনেই পরিবেশ ধ্বংস ও সরকারি সম্পদের ক্ষতি করে আসছে।
জানা যায়, গত ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের রাতে সংঘবদ্ধ একটি চক্র ‘পাড়ুয়া আলুঘাট’ এলাকায় প্রশাসনের স্থাপিত বেষ্টনী উপড়ে ফেলে। রাষ্ট্রীয় নির্দেশনা অমান্য করে এমন ঘটনার পরও দৃশ্যমান কঠোর ব্যবস্থা না নেওয়ায় সংশ্লিষ্টরা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে দাবি এলাকাবাসীর।
এরই ধারাবাহিকতায় ২১ ফেব্রুয়ারি গভীর রাতে উপজেলার নভাগী গ্রাম এলাকায় অভিযান চালিয়ে অবৈধ পাথর ও বালুবাহী একটি ট্রাক্টর আটক করে কোম্পানীগঞ্জ থানা পুলিশ। তবে কিছুক্ষণের মধ্যেই সংঘবদ্ধ একটি দল ঘটনাস্থলে জড়ো হয়ে পুলিশের কাজে বাধা দেয় এবং আটক করা ট্রাক্টরটি ছিনিয়ে নেয়।
অভিযোগ রয়েছে, নোয়াকান্দি (বাবুল নগর কান্দি) গ্রামের ইছবর আলী, তার ছেলে আফছর আলী, তোফাজ্জল হোসেন উজ্জল ও শামীমসহ তাদের সহযোগীরা দলবল নিয়ে উপস্থিত হয়ে ট্রাক্টরটি ছিনিয়ে নেয়।
তবে ইছবর আলী এবিষয়ে অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি কিছু জানি না।আমি এলাকার বাহিরে ছিলাম।
ঘটনার খবর পেয়ে সংবাদ সংগ্রহে গেলে হামলার শিকার হন এশিয়ান টেলিভিশন-এর ক্রাইম রিপোর্টার শফিকুল ইসলাম। তিনি অভিযোগ করেন, পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে উজ্জল ও শামীমের নেতৃত্বে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। পরে স্থানীয় সাবেক মেম্বার মন্তাজ উদ্দিন ঘটনাস্থলে যান। মন্তাজ উদ্দিন বলেন, বিষয়টি জানার পর তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে মীমাংসার প্রস্তাব দেন।
এলাকাবাসী জানান, উপজেলার শাহ আরেফিন সড়কের ভোলাগঞ্জ মোড় এলাকায় প্রশাসনের বেষ্টনী থাকলেও গভীর রাতে সোনাই নদী ও শাহ আরেফিন টিলা এলাকা থেকে অবৈধভাবে উত্তোলিত পাথর ও বালুবাহী ট্রাক্টর-ট্রলি অবাধে চলাচল করছে। ১৫-২০ টন ওজনের এসব যানবাহনের চাপে গ্রামীণ সড়কগুলো ভেঙে পড়ছে। এতে অন্তত সাত থেকে আটটি গ্রামের মানুষের যাতায়াত মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। অনেক স্থানে সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে সিএনজি অটোরিকশা ও মোটরসাইকেল চলাচলও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, একদিকে পরিবেশের ভয়াবহ ক্ষতি, অন্যদিকে সরকারের বিপুল রাজস্ব ফাঁকি—সব মিলিয়ে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করে আছে। কার্যকর অভিযান ও দৃশ্যমান শাস্তি ছাড়া পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব নয় বলে মত দেন তারা।
এ বিষয়ে কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন, পুলিশের কাজে বাধা দেওয়া ও গাড়ি ছিনতাই ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
অন্যদিকে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন-এর নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রবিন মিয়া বলেন, বেষ্টনী পুনঃস্থাপন করা হবে। তিনি জানান, থানা-পুলিশকে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গাড়ি ছিনতাই ও সাংবাদিক হেনস্তার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।