সোমবার, ২৬ জানুয়ারি ২০২৬
সোমবার, ২৬ জানুয়ারি ২০২৬
✔ বাংলা টেক্সট কনভার্টার
শিরোনাম
advertisement
সিলেট বিভাগ

দক্ষিণ সুরমায় বেপরোয়া স্বর্ণ প্রতারকরা

সিলেটের দক্ষিণ সুরমায় নকল স্বর্ণ প্রতারকরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। সাধারণ নিরীহ রিকশা ও অটোরিকশার যাত্রীদেরকে বিভিন্নভাবে প্রলোভন দেখিয়ে আসল স্বর্ণের আদলে তৈরী নকল স্বর্ণ দিয়ে টাকা হাতিয়ে নিয়ে চম্পট দেয় প্রতারকরা। প্রতিনিয়ত এভাবে মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখিন হতে হয় সাধারণ যাত্রী ও পথচারীদের। প্রতারকরা নিরীহ মহিলাদেরকে টার্গেট করে বেশি। সহজ সরল মহিলারা প্রতারকদের ফাঁদে পড়ে অনেকেই নিঃস্ব হয়েছেন, অনেকে নিঃস্ব হওয়ার পথে।

প্রতিদিন এইভাবে অনেক মহিলা ও পুরুষের কাছ থেকে নকল স্বর্ণ দিয়ে প্রতারণা করে টাকা পয়সা হাতিয়ে নেয় প্রতারক চক্র। ভোর ৬টা থেকে তিন ভাগে বিভক্ত হয়ে এরা তাদের প্রতারণামূলক কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছে।

হুমায়ুন রশিদ চত্বরে সিএনজি অটোরিকশা নিয়ে বসে থাকে একদল প্রতারক, ওভারব্রিজের উপরে আরেক দল এবং আলমগীরের নেতৃত্বে একদল ওভারব্রিজের নিচে অভিনব কৌশলে প্রতারনা চালিয়ে আসছে।

র‌্যাব, পুলিশ ও গোয়েন্দা পুলিশের অভিযানে একাধিকবার এদেরকে আটক করলেও আইন ফাঁক দিয়ে তারা বেরিয়ে এসে পূণরায় প্রতারণা শুরু করে। প্রতারক চক্রের মূলহোতা আনিছ ও আনোয়ার। এদের সঙ্গীয় জসিম, রাজ্জাক, শুকুর, জামাল সহ আরো কয়েকজন রয়েছেন। আলমগীর, আনিছ, শুকুর ও জামাল কদমতলী ফেরীঘাটের একটি কলোনীতে বসবাস করে আসছে। জসিম ও রাজ্জাক তারা আপন দুই ভাই ফেঞ্চুগঞ্জ রোডের একটি কলোনীতে বসবাস করে আসছে। খোকন নামের আরেক প্রতারক মোমিনখলায় বসবাস করে আসছে।

এব্যাপারে হুমায়ুন রশিদ চত্বরের কয়েকটি পানের দোকানে গিয়ে জানা যায়, এই প্রতারকরা প্রতিদিন ভোর ৬ টা থেকে সকাল ১১টা পর্যন্ত তারা মানুষের সাথে এই ভাবে প্রতারণা করে আসছে। আমরা নিরীহ মানুষ তাই তাদের বিরুদ্ধে কিছু বলতে পারিনা। এরা স্থানীয় প্রভাবশালীদেরকে ম্যানেজ করে তাদের এই অপরাধ কর্মকান্ড চালায়। এরা কোন কোন সময় সিএনজি অটোরিক্সায় যাত্রীবেশে থাকে এবং যাত্রীদেরকে স্প্রে দিয়ে অচেতন করে মালামাল নিয়ে চলে যায়। আনিছ, খোকন তাদের বাসায় বিপুল স্প্রে রয়েছে।

তারা দুইদিন আগে শিববাড়ীর এক ব্যবসায়ীর উপর স্প্রে দিয়ে অজ্ঞান করে ব্যবসায়ীর নিকট থেকে অনেক টাকা ছিনিয়ে নেয়। পরবর্তীতে কয়েকজন মানুষের সহযোগীতায় পরেরদিন আনিছ ও খোকন ঐ ব্যবসায়ীর টাকা ফেরত দিয়েছে বলে জানা যায়।
   
এ ব্যাপারে দক্ষিণ সুরমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সৈয়দ আনিছুর রহমানের সাথে কথা বললে তিনি জানান, আমরা এ ব্যাপারে তদন্ত করে দেখব। অপরাধ নির্মূলে আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে।

এই সম্পর্কিত আরো