সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলায় পূর্ব বিরোধের জেরে এক নিরীহ যুবকের ঠোঁট কেটে নিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। আহত যুবকের নাম তাজিম মিয়া (৩৫)। তিনি জয়কলস ইউনিয়নের শান্তিগঞ্জ বাজারসংলগ্ন ডুংরিয়া গ্রামের তাহির মিয়ার ছেলে।
ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার(২৪ জানুয়ারি) দিবাগত রাতে এশার নামাজের পর। প্রত্যক্ষদর্শী ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, তাজিম মিয়ার সঙ্গে একই গ্রামের আব্দুল মনাফের ছেলে ওয়ারিছ আলী ও তার ছেলেদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল।
শনিবার রাতে মসজিদে এশার নামাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ওঁত পেতে থাকা ওয়ারিছ আলী ও তার ছেলে সালামুন, মইনুল, রাহিমুলসহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজন তাজিম মিয়াকে চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে। এ সময় তারা তার হাত-পা ও গলা চেপে ধরে জোরপূর্বক চাকু দিয়ে ঠোঁট কেটে নেয়। পাশাপাশি তলপেটের নিচে, মাথায় ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে লোহার রড ও রুইল দিয়ে আঘাত করে তাকে গুরুতর জখম করে।
চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা তাজিম মিয়াকে মুমূর্ষু অবস্থায় ফেলে রেখে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরে স্থানীয়রা রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে শান্তিগঞ্জ ৫০ শয্যা হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তার অবস্থা গুরুতর হওয়ায় সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। বর্তমানে তিনি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে আহত তাজিম মিয়ার ভাই তাছকির মিয়া বলেন, “রাতের আঁধারে একা পেয়ে পরিকল্পিতভাবে আমার ভাইকে প্রাণে হত্যার উদ্দেশ্যে যেভাবে ঠোঁট কেটে ও মারধর করা হয়েছে, তা বর্বরতার নজির। আমরা হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।”
এ বিষয়ে শান্তিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওলীউল্লাহ জানান, এখনো এ ঘটনায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।