রবিবার, ২৫ জানুয়ারি ২০২৬
রবিবার, ২৫ জানুয়ারি ২০২৬
✔ বাংলা টেক্সট কনভার্টার
শিরোনাম
advertisement
সিলেট বিভাগ

জামালগঞ্জে হাওরে লাউ চাষে সফল কৃষাণী মর্জিনা

সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলায় হাওর এলাকায় লাউ চাষ করে সাফল্যের নজির গড়েছেন কৃষাণী মর্জিনা বেগম। তিনি উপজেলার সদর ইউনিয়নের কদমতলী গ্রামের বাসিন্দা ও সাইদুল ইসলামের স্ত্রী। বাড়ির চারপাশে প্রায় দেড় বিঘা জমিতে লাউ চাষ করে অল্প খরচে উল্লেখযোগ্য লাভ করেছেন তিনি।

জানা গেছে, মর্জিনা বেগম দেড় বিঘা জমিতে লাউ চাষের পাশাপাশি এক বিঘা জমিতে মরিচ, এক বিঘা জমিতে দেশীয় শাকসবজি, দুই বিঘা জমিতে বাদাম এবং দুই বিঘা জমিতে ধান চাষ করেছেন। লাউ চাষে তার মোট খরচ হয়েছে প্রায় ২০ হাজার টাকা। বাজারে লাউয়ের ভালো চাহিদা থাকায় গত দুই মাসে তিনি প্রায় ৬০ হাজার টাকার লাউ বিক্রি করেছেন। আগামীতে আরও ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকার লাউ বিক্রির আশা করছেন তিনি।

কম খরচে অল্প সময়ে এমন লাভের হিসাব দেখে এলাকার বিলকিস বেগম, রুজিনা আক্তারসহ আরও অনেক কৃষাণী লাউ ও অন্যান্য সবজি চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। সফল সবজি চাষী হিসেবে মর্জিনা বেগম এখন এলাকায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।

সরজমিনে দেখা যায়, হাওরের নতুন বাড়ির দুই পাশে লাউয়ের মাচায় ঝুলছে লম্বা ও সবুজ রঙের লাউ। যা দেখলে চোখ জুড়িয়ে যায়। মর্জিনা বেগম জানান, প্রতিটি লাউ পাইকারি দরে ২৫ থেকে ৩০ টাকায় বিক্রি করেছেন। তিনি লাউ ক্ষেতে প্রধানত জৈব সার ব্যবহার করেছেন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সামান্য রাসায়নিক সার প্রয়োগ করেছেন। কীটনাশকের ব্যবহার ছিল খুবই সীমিত।

তিনি আরও বলেন, বিষমুক্ত সবজির চাহিদা বাজারে বেশি থাকায় ভালো দাম পাওয়া যাচ্ছে। এতে চাষিরাও আগ্রহী হচ্ছেন।

তার স্বামী সাইদুল ইসলাম জানান, জমি প্রস্তুত, বীজ বপন ও জৈব সার প্রয়োগের কাজ তিনি করে থাকেন। সংসারের কাজ সামলানোর পাশাপাশি মর্জিনা বেগম নিজেই লাউসহ অন্যান্য ফসলের পরিচর্যা করেন। বাজারে লাউয়ের দাম ভালো থাকায় তারা গত বছরের তুলনায় বেশি লাভবান হয়েছেন বলেও জানান তিনি।

তবে সবজি উৎপাদনে সরকারি কোনো সরাসরি সহযোগিতা পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ করেন সাইদুল ইসলাম। তিনি বলেন, সার, বীজ ও অন্যান্য কৃষি উপকরণে সরকারি সহায়তা পেলে তাদের মতো চাষিরা আরও বেশি উৎপাদন করতে পারতেন।

এ বিষয়ে জামালগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুমন কুমার সাহা বলেন, চলতি মৌসুমে লাউসহ বিভিন্ন সবজির বীজ ৫০ জন কৃষাণীর মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে। উপজেলায় বাণিজ্যিকভাবে প্রায় ২০ হেক্টর জমিতে লাউ চাষ হচ্ছে। পাশাপাশি অনেক নারী বাড়ির আঙিনায় লাউ চাষ করে পরিবারের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি বাজারে বিক্রি করে লাভবান হচ্ছেন।

তিনি আরও জানান, বর্তমানে কৃষক ও কৃষাণীরা জৈব পদ্ধতিতে বিষমুক্ত সবজি উৎপাদনে সক্ষম হচ্ছেন। লাউ চাষে এবার বাম্পার ফলন হয়েছে এবং বাজারে চাহিদা বেশি থাকায় ন্যায্য দাম পাচ্ছেন চাষিরা। সবজি আবাদ আরও বাড়াতে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে বিভিন্ন প্রণোদনা ও কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে।

এই সম্পর্কিত আরো