রাজনৈতিকভাবে সচেতন সুনামগঞ্জ-২ (দিরাই-শাল্লা) সংসদীয় আসনে দীর্ঘদিনের অভ্যন্তরীণ বিভাজন কাটিয়ে বিএনপি অবশেষে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। দলের সব বলয়ের নেতারা এক মঞ্চে আসায় এই আসনের নির্বাচনী রাজনীতিতে নতুন গতি সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে ধারণা করা হচ্ছে, এই ঐক্যের ফলে সবচেয়ে বেশি অস্বস্তিতে পড়েছে জামায়াতে ইসলামী।
বিএনপির চূড়ান্ত মনোনীত প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য নাছির উদ্দীন চৌধুরীর পক্ষে আয়োজিত সাম্প্রতিক এক নির্বাচনী সভায় দলের বিভিন্ন বলয়ের শীর্ষ নেতারা একসঙ্গে উপস্থিত থেকে বক্তব্য দেন। দীর্ঘদিনের মতবিরোধ ভুলে নেতাদের এমন সম্মিলিত উপস্থিতি নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে।
এই আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে ছিলেন নাছির উদ্দীন চৌধুরী, জেলা বিএনপির সাবেক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট তাহির রায়হান চৌধুরী পাবেল, অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মিফতাহ উদ্দিন চৌধুরী রুমি, যুক্তরাজ্য বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আজমল হোসেন চৌধুরী জাবেদ, যুক্তরাজ্য বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার আব্দুল মজিদ তাহের এবং সিলেট মহানগর বিএনপি নেতা মাহবুব চৌধুরী।
কেন্দ্রীয় বিএনপি প্রাথমিকভাবে নাছির উদ্দীন চৌধুরী ও তাহির রায়হান চৌধুরী পাবেলকে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার নির্দেশ দিলে দুই পক্ষ আলাদাভাবে কর্মসূচি পালন করে। এমনকি দলীয় চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার দোয়া মাহফিলেও তারা এক মঞ্চে উপস্থিত হতে পারেননি। তবে মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিনে দলীয় হাইকমান্ড নাছির উদ্দীন চৌধুরীকে চূড়ান্ত প্রার্থী ঘোষণা করলে দলীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে সব পক্ষ ঐক্যের পথে ফিরে আসে।
পরবর্তীতে আয়োজিত নির্বাচনী সভায় নাছির উদ্দীন চৌধুরী ও তাহির রায়হান চৌধুরী পাবেলসহ মনোনয়ন প্রত্যাশী মিফতাহ উদ্দিন চৌধুরী রুমি ও আজমল হোসেন চৌধুরী জাবেদ এক মঞ্চে বক্তব্য দেন। এতে সভাটি পরিণত হয় ঐক্যের মিলনমেলায়।
সাবেক কাউন্সিল বিএনপি নেতা জয়নুল হক চৌধুরী বলেন, “দীর্ঘদিন পর সব বলয়ের নেতাদের এক মঞ্চে দেখে নেতাকর্মীরা দারুণভাবে উজ্জীবিত। ঐক্যবদ্ধ বিএনপিকে এখন আর সহজে ঠেকানো যাবে না।”
দিরাই উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল কাইয়ুম বলেন, “বিএনপি বিভক্ত থাকলে অন্য দলগুলো সুবিধা নিতো। এখন ঐক্য হওয়ায় সেই হিসাব বদলে গেছে।”
স্থানীয় বাসিন্দা নুরুল ইসলাম মনে করেন, বিএনপি ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে থাকলে ভোটের সমীকরণ তাদের অনুকূলে যাবে, যা জামায়াতসহ অন্যান্য দলের জন্য কৌশলগত চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে।
এদিকে, এ আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী হিসেবে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শিশির মনির প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। নতুন মুখ হলেও অল্প সময়েই তিনি আলোচনায় এসেছেন। তবে বিএনপির অভ্যন্তরীণ ঐক্যের ফলে তার নির্বাচনী চ্যালেঞ্জ বেড়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
সব মিলিয়ে সুনামগঞ্জ-২ আসনে বিএনপির এই ঐক্য নির্বাচনী মাঠে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি করেছে। এখন দেখার বিষয়, এই ঐক্যের প্রতিফলন ভোটের ফলাফলে কতটা দেখা যায়।