কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ভোলাগঞ্জ রোপওয়ে এলাকায় ধলাই নদীর সংরক্ষিত এলাকার বালু ও পাথর লুটকারীদের হামলায় উপজেলা প্রশাসনের খণ্ডকালীন তথ্যচিত্র ধারণকারী এক স্বেচ্ছাসেবী ফটোগ্রাফার গুরুতর আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় দুই হামলাকারীকে আটক করেছে পুলিশ।
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) বিকেল ৫টার দিকে ভোলাগঞ্জ রোপওয়ে বাংকার এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের সহযোগিতায় আহত ফটোগ্রাফারকে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সিলেট এম.এ.জি. ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার পরপরই অভিযান চালিয়ে দুই হামলাকারীকে আটক করা হয়। আটকরা হলেন—বিশ্ব গোস্বামী (২১), পিতা ওমেরন্ড গোস্বামী, সাং চন্দ্রনগর নতুন জীবনপুর এবং শামছুল আলম কালা (২৯), পিতা মোজাফ্ফর আলী, সাং দয়ারবাজার কালীবাড়ি, উভয়েই কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা।
আহত ফটোগ্রাফারের নাম রাসেল আহমদ। তিনি উপজেলার পুরাণ মেঘারগাঁও গ্রামের আলী হোসেনের ছেলে এবং কোম্পানীগঞ্জ ফটোগ্রাফার সোসাইটির সদস্য।
স্থানীয় সূত্র জানায়, সম্প্রতি ভোলাগঞ্জ ১০ নম্বর পর্যটন ঘাট ও রোপওয়ে এলাকায় তথ্য সংগ্রহ, জব্দকৃত সাদা পাথর পাহারা এবং উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন অভিযানে রাসেল আহমদ স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। শনিবার বিকেলে আরও দুই মাঝিসহ তিনি রোপওয়ে বাংকার এলাকায় গেলে পরিকল্পিতভাবে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়।
এ ঘটনার প্রতিবাদে কোম্পানীগঞ্জ ফটোগ্রাফার সোসাইটির উদ্যোগে রোববার সকাল ১০টায় ভোলাগঞ্জ ১০ নম্বর পর্যটন ঘাট এলাকায় প্রতিবাদ সভা ও মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়েছে। হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও সুশীল সমাজের সর্বস্তরের মানুষের উপস্থিতি কামনা করেছেন সংগঠনের সেক্রেটারি সাংবাদিক কবির আহমদ।
এ বিষয়ে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম খান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, আটককৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।