প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ও গণভোট সংক্রান্ত জনসচেতনতামূলক প্রচার কার্যক্রমের মুখ্য সমন্বয়ক অধ্যাপক আলী রিয়াজ বলেছেন, সমাজে ইমামদের মর্যাদা ও প্রভাব অন্য যেকোনো পেশার মানুষের চেয়ে অনেক বেশি। একটি ন্যায়ভিত্তিক, সমতাপূর্ণ এবং মানবিক মর্যাদার সমাজ গঠনে ইমামদের অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সিলেট নগরীর বিভাগীয় ক্রীড়া কমপ্লেক্সে সিলেট বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় ও ইসলামিক ফাউন্ডেশন আয়োজিত ‘গণভোটের প্রচার ও ভোটার উদ্বুদ্ধকরণ’ শীর্ষক বিভাগীয় ইমাম সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অধ্যাপক আলী রিয়াজ বলেন, গত ১৬ বছর বাংলাদেশ এক ব্যক্তির ফ্যাসিবাদী শাসনে অন্ধকারে নিমজ্জিত ছিল। দেশের সকল সাংবিধানিক কাঠামো ভেঙে ফেলা হয়েছিল। এই দুঃশাসন থেকে মুক্তি পেতে আমাদের সন্তানরা রক্ত দিয়েছে। রক্তের অক্ষরে লেখা সেই ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নে আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ের কোনো বিকল্প নেই।
তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, অতীতে এই ব্যবস্থার অধীনে দেশে সফল ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হতো। কিন্তু আমৃত্যু ক্ষমতায় টিকে থাকতে ফ্যাসিবাদী সরকার সংবিধান কাটাছেঁড়া করে এই ব্যবস্থা বাতিল করেছিল। ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকার রাজনৈতিক ঐকমত্যের ভিত্তিতে গণভোটের আয়োজন করছে। এই গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলেই জনগণের মত প্রকাশের অধিকার ও গণতন্ত্র সুসংহত হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার বলেন, বিগত সরকারগুলোর সময় দাড়ি, টুপি ও পাঞ্জাবি পরিহিত আলেমদের দেখলেই ‘জঙ্গি’ তকমা দিয়ে হয়রানি করা হতো। এমনকি রাষ্ট্রীয় অর্থায়নে নির্মিত সিনেমাতেও আলেমদের নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করা হতো। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান আলেম সমাজকে সেই দীর্ঘদিনের নিপীড়ন থেকে মুক্তি দিয়েছে। ফ্যাসিবাদ চিরতরে নির্মূল করতে আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী করা আমাদের সকলের ঈমানি ও নৈতিক দায়িত্ব।
সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার খান মো. রেজা-উন-নবীর সভাপতিত্বে সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ধর্ম সচিব মো. কামাল উদ্দিন, সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি মো. মুশফেকুর রহমান, এসএমপি কমিশনার আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী, সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পরিচালক ড. সৈয়দ শাহ এমরান এবং সিলেট জেলা ইমাম সমিতির সভাপতি মাওলানা হাবীব আহমদ শিহাব।
সম্মেলনে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন জেলার জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, বিপুল সংখ্যক ইমাম এবং সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা আসন্ন গণভোট সফল করতে সাধারণ ভোটারদের সচেতন করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।