সিলেটের জৈন্তাপুরে বিজিবি সদস্যদের সঙ্গে চোরাকারবারিদের সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনায় বিজিবি সদস্যসহ অন্তত চারজন আহত হয়েছেন। এদের মধ্যে একজন গুলিবিদ্ধ হন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২১ শে জানুয়ারি বুধবার সকাল ৭টার দিকে জৈন্তাপুর থানাধীন নিজপাট ইউনিয়নের টিপরাখলা ঘুড়িমারা এলাকায় ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের মেইন পিলার ১২৮৮ থেকে আনুমানিক ১৫০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে অবৈধ ভাবে ভারতীয় চোরাচালানের ৬টি গরু আটক করে জৈন্তাপুর রাজবাড়ী বিওপির সদস্যরা।
ঐ সময় বিজিবি সদস্য হাবিলদার মো. কামাল হোসেন (৪৭) ও ল্যান্স নায়েক মো. ওমর ফারুকসহ ৫/৬ জন বিজিবি সদস্যের সঙ্গে স্থানীয় চোরাকারবারির সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে ল্যান্স নায়েক মো. ওমর ফারুক আহত হন। এ ঘটনায় জৈন্তাপুর থানায় বিজিবি বাদী হয়ে ২১শে জানুয়ারী বৃহস্পতিবার ৩১ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করে বিজিবি।
এই ঘটনার পর বৃহস্পতিবার (২২শে জানুয়ারি) সন্ধ্যা আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে জৈন্তাপুর থানাধীন গৌরীশংকর টিপরাখোলা এলাকায় টহলরত ৫-৬ জন বিজিবি সদস্যের সঙ্গে স্থানীয় চোরাকারবারিদের বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে চোরাকারবারিরা বিজিবি সদস্যদের লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করলে ১জন বিজিবি সদস্য মাথায় গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত হন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে রাত আনুমানিক পৌনে দশটায় বিজিবি সদস্যরা আত্মরক্ষার্থে ৫-৬ রাউন্ড গুলি (স্থানীয়দের ভাষ্যমতে আরো বেশী) ছুড়ে। অপরদিকে মসজিদের মাইকে ঘোষনা দিয়ে বিজিবির উপর সাধারণ জনতাককে উষ্কেদেয় চোরাকারবারীরা। যার কারনে বিজিবি সদস্যরা অবরোধ হয়ে পড়ে। এদিকে বিজিবির গুলিতে মো. আতিক আহমেদ (২০) গুলিবিদ্ধ হন, সাথে আহত হন মো. রায়হান মিয়া (২৮), নুরজাহান (৫০) ও জৈন্তাপুর রাজবাড়ী বিওপির বিজিবি সদস্য সাহাঙ্গীর আলম (৪৩) মাথায় আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে আহত হন।
আহতদের জৈন্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হলে গুরুতর অবস্থায় মো. আতিক ও বিজিবি সদস্য সাহাঙ্গীর আলমকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। গুলিবিদ্ধ আতিক গৌরিশঙ্কর গ্রামের মৃত নূর নবীর ছেলে।
ঘটনার খবর পেয়ে হাসপাতাল এলাকায় সহ ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (কানাইঘাট সার্কেল) সালমান নূর আলম ও জৈন্তাপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান মোল্লা সহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও হরিপুর গ্যাসফিল্ড সেনাক্যাম্পে (২৭ বীর) সেনাবাহিনীর টহল দল উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং বিজিবি সদস্যদের বিওপিতে পৌছেদেন।
শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে ও বর্তমানে অতিরিক্ত নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন জৈন্তাপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান মোল্লা।
এ বিষয়ে ১৯ বিজিবির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।