জামালগঞ্জ উপজেলায় শুক্রবার সকাল থেকে সন্ধা পর্যন্ত সরস্বতী পূজা উদযাপন উপলক্ষে প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। সকাল থেকেই উপজেলার বিভিন্ন স্কুল, কলেজ, মন্দির ও সামাজিক সংগঠনে অনুষ্ঠিত হবে এই পূজা। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও মন্দিরগুলো সাজানো হয়েছে বর্ণিল আলোকসজ্জায়।
সরস্বতী পূজার আগের দিন বৃহস্পতিবার শেষ মুহূর্তে প্রতিমা বেচাকেনায় ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রতিমা কারিগররা বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার সাচনা পালপাড়ায় গিয়ে দেখা যায়, প্রতিমা কিনতে আসা ক্রেতাদের ভিড়। পূজার আগের দিন হওয়ায় বিক্রি তুলনামূলকভাবে বেশি বলে জানিয়েছেন কারিগররা। প্রতিমার পাশাপাশি পূজার বিভিন্ন সামগ্রীও বিক্রি হচ্ছে। সাচনা পালপাড়ার পলক ও সাচনা মিলন সংঘের আশ্রমে কথা হয় প্রতিমা কারিগর ও জামালগঞ্জ সরকারি ডিগ্রি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী তপন পালের সঙ্গে।
তিনি জানান, এ বছর আমার বাবা মধু পাল ও ছোট ভাই সাচনা বাজার উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী পঙ্কজ পালকে নিয়ে প্রায় এক মাস ধরে প্রতিমা তৈরির কাজ করেছি। এবার মোট ৮০টি প্রতিমা তৈরি করেছি। এখন রঙ করে বিক্রি করছি। বিক্রি শেষে লাভ-ক্ষতির হিসাব করব। তবে আশা করছি দেড় থেকে দুই লাখ টাকা লাভ হবে।
তিনি আরও জানান, তাঁর কাছে প্রতিমার সর্বোচ্চ মূল্য ১২ হাজার টাকা এবং সর্বনিম্ন ১ হাজার ৩০০ টাকা।
প্রতিমা কারিগর মধু পাল বলেন, ১৫ বছর বয়সে বাবার হাত ধরে প্রতিমা তৈরির কাজ শুরু করি। বর্তমানে আমার বয়স ৫০ বছর। আমার ছেলে পাপন ও পঙ্কজ আমার সঙ্গে এই কাজ করছে। আমি না থাকলেও তারা আমাদের পারিবারিক ঐতিহ্য ধরে রাখবে।
জামালগঞ্জ উপজেলা ব্রাহ্মণ সংসদের সভাপতি বিদ্যুৎ জ্যোতি চক্রবর্তী বলেন, প্রতিবছরের মতো এবারও স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে সরস্বতী পূজার আয়োজন করছে। পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও মন্দিরগুলোতে উৎসবমুখর পরিবেশে পূজা উদযাপন করা হচ্ছে। পূজারীদের বিশ্বাস—মা সরস্বতী সন্তুষ্ট হলে বিদ্যা, জ্ঞান ও চারুকলায় আশীর্বাদ লাভ করা যায়।
তিনি আরও বলেন, দুর্গা, সরস্বতী ও কালী পূজাকে কেন্দ্র করে প্রতিমা কারিগরদের ব্যস্ততা বাড়লেও শ্রম অনুযায়ী মজুরি পান না তারা। তবুও বাপ-দাদার ঐতিহ্য রক্ষায় এই পেশা ধরে রেখেছেন কারিগররা।