মৌলভীবাজার-২ (কুলাউড়া) আসনে নির্বাচনী ডামাডোলের মধ্যেই আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী শওকতুল ইসলাম শকুর বিরুদ্ধে। আইন লঙ্ঘন করে নির্ধারিত সময়ের আগে প্রচারণা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সভা করার অভিযোগে তাঁকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দিয়েছে নির্বাচনী অনুসন্ধান কমিটি।
গত শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির দায়িত্বপ্রাপ্ত বিচারক (সিভিল জজ) মো. ইয়াছিন ফারুক স্বাক্ষরিত এক পত্রে এই নোটিশ জারি করা হয়।
জানা গেছে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কুলাউড়া উপজেলা শাখার অফিস সেক্রেটারি আতিকুর রহমান গত ১৫ জানুয়ারি বিএনপির প্রার্থীর বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, গত ১২ জানুয়ারি থেকে শওকতুল ইসলাম শকু ও তাঁর সমর্থকরা কুলাউড়া উপজেলার বিভিন্ন স্থানে লিফলেট এবং ‘ফ্যামিলি কার্ড’-এর নমুনা বিতরণ করে প্রচারণা চালাচ্ছেন। এছাড়া গত ১৪ জানুয়ারি তিনি উপজেলার ব্রাহ্মণবাজার ইউনিয়নের হিংগাজিয়া স্কুল ও মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সশরীরে উপস্থিত হয়ে নির্বাচনী সভা করেন।
নির্বাচনী অনুসন্ধান কমিটি সূত্রে জানা গেছে, প্রার্থীর নিজস্ব ফেসবুক আইডি ("Shawkatul Islam Shaku") এবং "BNP 360-Moulvibazar2" নামক পেজ থেকে আগাম প্রচারণার বিষয়টি তাদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, ভোটগ্রহণের নির্ধারিত সময়ের তিন সপ্তাহ পূর্বেই এ ধরনের প্রচারণা চালানো ‘সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা, ২০০৫’-এর ৩ এবং ১৮ নম্বর বিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
শোকজ নোটিশে অভিযুক্ত প্রার্থীকে আগামী ১৯ জানুয়ারি (সোমবার) বিকেল ৩টার মধ্যে কুলাউড়া সড়ক ও জনপথ বিভাগের ডাকবাংলোর অস্থায়ী কার্যালয়ে সশরীরে অথবা প্রতিনিধির মাধ্যমে উপস্থিত হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা প্রদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে কমিটির দায়িত্বপ্রাপ্ত বিচারক (সিভিল জজ) মো. ইয়াছিন ফারুক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, "নির্বাচনী আইন লঙ্ঘন করে প্রচারণা চালানোয় প্রার্থীর কাছে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। আইনের ব্যত্যয় ঘটলে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"
ইতিমধ্যেই এই নোটিশের অনুলিপি নির্বাচন কমিশন সচিবালয়, মৌলভীবাজার জেলা রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক, জেলা পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরে প্রেরণ করা হয়েছে। এ ঘটনায় কুলাউড়া নির্বাচনী এলাকায় রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।