সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলায় জরাজীর্ণ রাস্তার মেরামত নিয়ে ফেসবুকে পোস্ট দেওয়ার জেরে একটি নিরীহ পরিবারকে সমাজচ্যুত বা ‘একঘরে’ করে রাখার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) বেলা আড়াইটায় সিলেট জেলা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন উপজেলার অলংকারি ইউনিয়নের ছোট খুরমা গ্রামের মো. মাসুক মিয়ার ছেলে মো. ফাহিম উদ্দিন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ফাহিম উদ্দিন জানান, তাঁদের গ্রামের একটি বিধ্বস্ত রাস্তা দীর্ঘদিন ধরে মেরামত না হওয়ায় তাঁর প্রবাসী ভাই সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং আওয়ামী লীগ ও বিএনপি ঘরানার কতিপয় নেতা সালিশ-বৈঠক ডাকেন। গ্রামের শান্তি রক্ষায় ফাহিম ওই বৈঠকে উপস্থিত হয়ে ভাইয়ের পক্ষ থেকে দুঃখ প্রকাশ করেন এবং পোস্টটি ডিলিট করে দেন।
ফাহিম অভিযোগ করেন, এতেও অভিযুক্তরা সন্তুষ্ট হননি। তাঁরা ভুয়া ফেসবুক আইডি খুলে ফাহিম ও তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে অপপ্রচার শুরু করেন এবং বিষয়টি মীমাংসার নামে চাঁদা দাবি করেন। এসব ঘটনার নেপথ্যে থানা আওয়ামী লীগ নেতা সিরাজুল ইসলাম, অলংকারী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহসভাপতি রফিক মিয়া, সাধারণ সম্পাদক সাদিক আলী, রিয়াজ আলী ও আব্দুন নূরসহ কতিপয় আওয়ামী লীগ ও বিএনপি নেতা জড়িত বলে তিনি দাবি করেন।
ফাহিম আরও বলেন, “কয়েক দিন আগে তারা আবারও সালিশ-বৈঠক ডাকেন। ওই দিন আমার পরীক্ষা থাকায় আমি যেতে পারিনি। এই অজুহাতে তারা সালিশে আমার পরিবারকে ‘একঘরে’ করার ঘোষণা দেন। এখন তারা আমাদের পরিবারের সদস্যদের নানাভাবে হুমকি দিচ্ছেন। আমার ছোট ছোট শিক্ষার্থী ভাই-বোনরা বর্তমানে চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে। ছোট বোনটি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে। তাদের অত্যাচারে আমরা এখন বাড়িছাড়া।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, অভিযুক্তরা চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের আগেও এলাকায় নানাভাবে প্রভাব বিস্তার ও মানুষকে হয়রানি করেছেন এবং বর্তমানেও সেই ধারা অব্যাহত রেখেছেন। বর্তমানে নিরাপত্তাহীনতায় ভোগা এই পরিবারটি বাড়ি ফিরতে এবং স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে সিলেট জেলা পুলিশ সুপারসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জরুরি হস্তক্ষেপ ও সহযোগিতা কামনা করেছে।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিবারের অন্যান্য সদস্য ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। এ বিষয়ে অভিযুক্ত নেতাদের সাথে তাৎক্ষণিকভাবে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তবে পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।