বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি ২০২৬
বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি ২০২৬
✔ বাংলা টেক্সট কনভার্টার
শিরোনাম
জেলা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন - আ.লীগ-বিএনপি মিলে পরিবারকে ‘একঘরে’ করার অভিযোগ সিলেটে জেলা বিএনপি নেতা মানিককে আটক করেছে সেনাবাহিনী জাইমা রহমানের ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম আইডি জানাল বিএনপি ১০ টাকার চালের মতো ডামি কৃষি-ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ হচ্ছে: জামায়াত প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যমুনায় সপরিবারে তারেক রহমান বাংলাদেশি সন্দেহে ভারতে ফের মুসলিম তরুণের ওপর হামলা পাঁচ ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর পুনরায় চালু ইরানের আকাশপথ ইরান পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠকে বসছে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ মধ্যপ্রাচ্যে বিমানবাহী রণতরি পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র সিলেটের লাক্কাতুড়া থেকে গ্রেপ্তার মঙ্গল
advertisement
সিলেট বিভাগ

বিলুপ্তির পথে ঐতিহ্যবাহী চুঙ্গা পিঠার ঢলু বাঁশ

সিলেটের প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী চুঙ্গা পিঠার ঢলু বাঁশ প্রায় বিলুপ্তির পথে। গ্রামীণ এলাকার বাড়িগুলোতে চুঙ্গাপুড়ার আয়োজন তেমন আর হয় না। শীতের রাতে খড়কুটো জ্বালিয়ে সারা রাত চুঙ্গাপুড়ার দৃশ্যও দেখা যায় না। মাছের মেলা থেকে মাছ কিনে কিংবা হাওর-নদী থেকে ধরা হতো রুই, কাতলা, চিতল, বোয়াল, পাবদা, কই ও মাগুর মাছ। সেই মাছ হালকা মসলা দিয়ে ভেজে (আঞ্চলিক ভাষায় মাছ বিরাণ) চুঙ্গাপুড়া পিঠা খাওয়া ছিল সিলেটের সকল জেলা ও উপজেলার অন্যতম ঐতিহ্য।

জানা যায়, বড়লেখার পাথরিয়া পাহাড়, জুড়ীর লাঠিটিলা, রাজনগর, কমলগঞ্জসহ বিভিন্ন উপজেলার উঁচু-নিচু টিলা, চা-বাগান ও জুড়ী উপজেলার চুঙ্গাবাড়ীতে প্রচুর ঢলু বাঁশ পাওয়া যেত। বনদস্যু, ভূমিদস্যু ও পাহাড়খেকোদের কারণে বনাঞ্চল উজাড় হয়ে যাওয়ায় হারিয়ে গেছে এসব ঢলু বাঁশ। কিছু কিছু টিলায় সীমিত পরিমাণে ঢলু বাঁশ পাওয়া গেলেও পাহাড়ে আগের মতো বাঁশ নেই বলে বাজারে ঢলু বাঁশের দামও বেশ চড়া।

বাড়িতে মেহমান বা নতুন জামাইকে চুঙ্গাপুড়া পিঠা মাছ বিরাণ আর নারিকেলের পিঠা পরিবেশন না করলে যেন লজ্জায় যেন মাথা কাটা যেত। এখন আর সেই দিন নেই। চুঙ্গাপিঠা তৈরির প্রধান উপকরণ ঢলু বাঁশ ও বিন্নি ধানের চাল সরবরাহ অনেক কমে গেছে। অনেক স্থানে আগের মতো তেমন চাষাবাদও হয় না।

ঢলু বাঁশ ছাড়া চুঙ্গাপিঠা তৈরি করা যায় না কারণ এই বাঁশে এক ধরনের তৈলাক্ত রাসায়নিক পদার্থ থাকে, যা আগুনে বাঁশের চুঙ্গাকে না পোড়াতে সাহায্য করে। ঢলু বাঁশে অত্যধিক রস থাকায় আগুনে না পুড়ে ভিতরের পিঠা আগুনের তাপে আগে সিদ্ধ হয়ে যায়। কোনো কোনো অঞ্চলে চুঙ্গার ভেতরে বিন্নি চাল, দুধ, চিনি, নারিকেল ও চালের গুঁড়া দিয়ে পিঠা তৈরি করা হয়। পিঠা তৈরি হয়ে গেলে মোমবাতির মতো চুঙ্গা থেকে পিঠা আলাদা হয়ে যায়। চুঙ্গা পিঠা পোড়াতে প্রচুর পরিমাণে খড়ের দরকার পড়ে।

পুতুল বাবু ও ডা: পিন্টু জানান, সব সময় তো এই জিনিসগুলো পাওয়া যায় না। পৌষসংক্রান্তি উপলক্ষে এগুলো খুব কম পরিমাণ বাজারে উঠেছে। আজ থেকে ১০ কিংবা ১৫ বছর আগে প্রচুর দেখা যেত। এখন কালের বিবর্তনে হারিয়ে যেতে বসেছে। বাজারে আসার সময় পরিবারের সদস্যরা বলল পিঠা তৈরির জন্য ঢলু বাঁশ নিয়ে যেতে। তাই কয়েকটা বাজার ঘুরে দেখলাম কিন্তু পেলাম না। শমশেরনগর বাজারে অল্প পরিমাণ ঢলু বাঁশ নিয়ে এসেছেন বিক্রেতারা। সেখান থেকে নিয়ে যাচ্ছি।

তারাপাশা স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ রহিম খান জানান, লুকিয়ে থাকা সুস্বাদু মনোমুগ্ধকর এক প্রকার পিঠা। তাই কিছুটা সময় অপেক্ষা করে পিঠা খেলে সেই স্বাদটা পাওয়া যায়। তা ছাড়া সিলেটের প্রাচীন ঐতিহ্য পিঠে-পুলির অন্যতম চুঙ্গাপুড়া পিঠা। পিঠা তৈরির জন্য ঢলু বাঁশ খুব কম পাওয়া যায়। আগের মতো আর দেখা যায় না। প্রায় বিলুপ্ত হচ্ছে চুঙ্গা পিঠার ঢলু বাঁশ।                     

 

 

এই সম্পর্কিত আরো

জেলা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন আ.লীগ-বিএনপি মিলে পরিবারকে ‘একঘরে’ করার অভিযোগ

সিলেটে জেলা বিএনপি নেতা মানিককে আটক করেছে সেনাবাহিনী

জাইমা রহমানের ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম আইডি জানাল বিএনপি

১০ টাকার চালের মতো ডামি কৃষি-ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ হচ্ছে: জামায়াত

প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যমুনায় সপরিবারে তারেক রহমান

বাংলাদেশি সন্দেহে ভারতে ফের মুসলিম তরুণের ওপর হামলা

পাঁচ ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর পুনরায় চালু ইরানের আকাশপথ

ইরান পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠকে বসছে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ

মধ্যপ্রাচ্যে বিমানবাহী রণতরি পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

সিলেটের লাক্কাতুড়া থেকে গ্রেপ্তার মঙ্গল