প্রায় দুই দশকের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আধ্যাত্মিক রাজধানী সিলেটে পা রাখছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আগামী ২১ জানুয়ারি তিনি সিলেটে পদার্পণ করবেন এবং ২২ জানুয়ারি দুই ওলির মাজার জিয়ারতের মাধ্যমে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরু করবেন। দীর্ঘ ১৭ বছরের প্রবাস জীবন এবং সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তাঁর এই সফরকে কেন্দ্র করে সিলেটজুড়ে বইছে উৎসবের আমেজ।
বিএনপির রাজনৈতিক ইতিহাসে সিলেট থেকে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করা একটি অবিচ্ছেদ্য ঐতিহ্যে পরিণত হয়েছে। দলটির প্রয়াত চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া প্রতিবারই হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার জিয়ারতের মাধ্যমে প্রচারণার সূচনা করতেন। এবার সেই একই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে তাঁর উত্তরসূরি তারেক রহমান পুণ্যভূমি সিলেট থেকেই ‘ধানের শীষের’ পক্ষে ভোট প্রার্থনা শুরু করতে যাচ্ছেন।
দলীয় সূত্রমতে, ২১ জানুয়ারি তারেক রহমান সিলেটে পৌঁছাবেন। ২২ জানুয়ারি সকালে তিনি হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করবেন। এরপর বেলা ১১টায় সিলেটের ঐতিহাসিক আলিয়া মাদরাসা মাঠে এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির ভাষণ দেবেন। ওই দিনই তিনি সড়কপথে মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ অভিমুখে যাত্রা করবেন। মৌলভীবাজারের প্রার্থীদের নিয়ে শেরপুরে এবং হবিগঞ্জের প্রার্থীদের নিয়ে শায়েস্তাগঞ্জে পৃথক সমাবেশে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর।
বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় দল বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের শ্বশুরবাড়ি সিলেটে হওয়ায় স্থানীয়দের কাছে তিনি ‘সিলেটের জামাই’ হিসেবে বিশেষভাবে সমাদৃত। এই সফরকে কেন্দ্র করে তাঁর সঙ্গে স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান ও কন্যা জাইমা রহমানের আসার সম্ভাবনা রয়েছে, যা নেতা-কর্মীদের মধ্যে বাড়তি উদ্দীপনা তৈরি করেছে। ইতোমধ্যে সিলেট মহানগরীর বিভিন্ন স্তরে প্রস্তুতি সভা শুরু হয়েছে।
বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ সিদ্দিকী বলেন, আমাদের চেয়ারম্যানের এই সফর শুধু রাজনৈতিক নয়, এটি আবেগ ও ঐতিহ্যের মেলবন্ধন। তিনি আলিয়া মাদরাসার মাঠ থেকে সিলেট ও সুনামগঞ্জের ১১টি আসনের প্রার্থীদের হাতে নির্বাচনী প্রতীক ‘ধানের শীষ’ তুলে দেবেন। এই জনসভা জনসমুদ্রে পরিণত হবে এবং এখান থেকেই সারা দেশে পরিবর্তনের জোয়ার শুরু হবে।
২০০৫ সালে সর্বশেষ তৃণমূল সম্মেলনে অংশ নিতে তারেক রহমান সিলেট সফর করেছিলেন। এরপর দীর্ঘ ১৭ বছর লন্ডনে থেকে দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থান এবং পরবর্তীতে দেশে ফেরার পর ঢাকার বাইরে এটিই হবে তাঁর প্রথম বড় কোনো রাজনৈতিক সফর। এর আগে ২৫ ডিসেম্বর সিলেট হয়ে ঢাকা ফেরার সময় তিনি বিমানেই ছিলেন, তবুও সিলেটবাসীর মধ্যে যে প্রাণচাঞ্চল্য দেখা গিয়েছিল, এবারের সরাসরি উপস্থিতিতে তা কয়েক গুণ বাড়বে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
বিএনপি নেতাদের দাবি, তারেক রহমানের এই সফরের মাধ্যমে দলের মধ্যে থাকা সব ধোঁয়াশা কেটে যাবে এবং ঐক্যবদ্ধভাবে নেতাকর্মীরা নির্বাচনের মাঠে ঝাঁপিয়ে পড়বে। ২১ জানুয়ারি তিনি সিলেট সার্কিট হাউসে বা নির্ধারিত কোনো হোটেলে রাতযাপন করতে পারেন। তবে এই বিষয়ে চূড়ান্ত নিরাপত্তা ও প্রস্তুতি খতিয়ে দেখছে বিএনপি।