সিলেটের কানাইঘাটে নেশার টাকা না পেয়ে নিজের দাদীকে ঘুমের মধ্যে নির্মমভাবে হত্যা করেছে এক মাদকাসক্ত যুবক। এ মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার লক্ষীপ্রসাদ পশ্চিম ইউনিয়নের কালিনগর ধর্মটিলা গ্রামে। পুলিশ অভিযুক্ত নাতি আব্দুস ছামাদ (২০)-কে গ্রেফতার করেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ধারণা করা হচ্ছে গত মঙ্গলবার গভীর রাতে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। নিহত আমিরুন নেছা হারি-র মাথায় গুরুতর রক্তাক্ত আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ধারালো ও ভারী কোনো অস্ত্র দিয়ে তাকে হত্যা করা হয়েছে।
ঘাতক আব্দুস ছামাদ ওই গ্রামের আকমল হোসেনের পুত্র। আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, সে দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদকে আসক্ত ছিল। তার বাবা আকমল হোসেন স্ত্রীসহ বিয়ানীবাজার উপজেলার একটি প্রবাসী পরিবারের বাড়িতে কেয়ারটেকারের কাজ করেন। ফলে ছামাদ দাদীর সঙ্গেই বসবাস করত।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার রাতে নেশার টাকা চেয়ে দাদী আমিরুন নেছা হারির সঙ্গে ছামাদের বাকবিতণ্ডা হয়। টাকা না পেয়ে সে ক্ষিপ্ত হয়ে গভীর রাতে দাদীর বসতঘরে ঢুকে ঘুমন্ত অবস্থায় মাথায় ভারী অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে তাকে হত্যা করে।
বুধবার (১৩ জানুয়ারি) সকালে আশপাশের লোকজন দীর্ঘ সময় ধরে কোনো সাড়া না পেয়ে ঘরে প্রবেশ করে আমিরুন নেছা হারির রক্তাক্ত লাশ দেখতে পান। পরে বিষয়টি কানাইঘাট থানা পুলিশকে জানানো হলে কানাইঘাট সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সালমান নুর আলম ও থানার অফিসার ইনচার্জ আমিনুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে অভিযান চালিয়ে হত্যাকাণ্ডের মূল অভিযুক্ত আব্দুস ছামাদকে গ্রেফতার করে। লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
এ বিষয়ে কানাইঘাট থানার ওসি আমিনুল ইসলাম জানান, দাদী হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত নাতিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
প্রতিবেশীরা আরও জানান, আব্দুস ছামাদ নিয়মিত মাদক সেবন করত। তার আচরণে পরিবার দীর্ঘদিন ধরে অতিষ্ঠ ছিল। একাধিকবার তাকে থানায় নেওয়া হলে পুলিশ মাদক নিরাময় কেন্দ্রে পাঠানোর পরামর্শ দিয়েছিল।