মৌলভীবাজারের কুলাউড়ার ৫৬ বছরের পুরনো ঐতিহ্যবাহী কুলাউড়া সরকারি ডিগ্রি কলেজের প্রাক্তণ শিক্ষার্থীদের পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান রাত পোহালেই আগামীকাল ১০জানুয়ারি শনিবার অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এ লক্ষে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে কুলাউড়া সরকারি ডিগ্রি কলেজ অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন।
শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) বিকেলে কলেজ ক্যাম্পাসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে কলেজের অধ্যক্ষ ও অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের আহবায়ক প্রফেসর ড. মুহম্মদ আলাউদ্দিন খানের সভাপতিত্বে ও পুনর্মিলনী উদযাপন পরিষদের মিডিয়া ও প্রচার উপ-কমিটির সদস্য সচিব মাহফুজ শাকিলের পরিচালনায় বক্তব্য দেন অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক সৌম্য প্রদীপ ভট্টাচার্য্য সজল।
অনুষ্ঠানের সার্বিক সকল বিষয় নিয়ে বক্তব্য দেন অ্যালামনাই এসোসিয়েশনের সদস্য সচিব সুফিয়ান আহমদ। অনুষ্ঠানে শৃঙ্খলা বিষয় নিয়ে বক্তব্য দেন শৃঙ্খলা উপ-কমিটির আহবায়ক রেজাউল আলম ভূঁইয়া খোকন ও শিক্ষক সোহেল আহমদ, মিডিয়া ও প্রচার উপ-কমিটির আহবায়ক একেএম জাবের।
এসময় উপস্থিত ছিলেন অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের উপদেষ্ঠা এমদাদুল ইসলাম ভূট্টো, ফজলুল হক ফজলু, এড. সালাহ উদ্দিন আজিজ, পুনর্মিলনী উদযাপন পরিষদের যুগ্ম আহবায়ক মিসবাহ উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী, অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম আহবায়ক সিপার উদ্দিন আহমেদ, খালেদ পারভেজ বখস, মইনুল ইসলাম শামীম, নির্মাল্য মিত্র সুমন, সারোয়ার আলম বেলাল, এ.কে.এম শাহজালাল, তুষার কান্তি দে, ডাঃ হেমন্ত চন্দ্র পাল, যুগ্ম সদস্য সচিব আব্দুল কাইয়ুম মিন্টু, মিডিয়া ও প্রচার উপ-কমিটির যুগ্ম আহবায়ক নাজমুল বারী সোহেল, শৃঙ্খলা উপ-কমিটির যুগ্ম সদস্য সচিব সাইফুর রহমান প্রমুখ।
এর আগে গত বুধবার সকাল ১১টায় কলেজ ক্যাম্পাস থেকে এক আনন্দ র্যালী কুলাউড়া শহর প্রদক্ষিণ করে শহরের ডাকবাংলো মাঠে গিয়ে শেষ হয়। এতে নানা বয়সী বিভিন্ন শ্রেণিপেশায় প্রতিষ্ঠিত সাবেক শিক্ষার্থীদের সাথে কলেজের বর্তমান শিক্ষার্থীরাও সামিল হন।
অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য সচিব সুফিয়ান আহমেদ বলেন, ১৯৬৯ সালে প্রতিষ্ঠিত কুলাউড়া সরকারি কলেজ ৫৬ বছর পূর্ণ করেছে। কলেজের ৫৬ বছর পূর্তিতে পুনর্মিলনীর বর্ণাঢ্য উৎসব ১০ জানুয়ারী শনিবার কলেজ ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত হবে। অনুষ্ঠান সফল করতে ইতিমধ্যে পুনর্মিলনী উদযাপন পরিষদের পক্ষ থেকে নানা আয়োজন ও প্রস্তুতি শেষ করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানসূচির মধ্যে শনিবার সকাল সাড়ে নয়টায় জাতীয় পতাকা উত্তোলন, জাতীয় ও দেশাত্ববোধক সংগীত পরিবেশন, সকাল দশটায় আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা, সাড়ে দশটায় প্রয়াত শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মাগফিরাত কামনায় শোক প্রস্তাব ও দোয়া, দশটা চল্লিশে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের স্মৃতিচারণ, দুপুর আড়াইটায় কলেজের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের সম্মাননা, বিকেল ৩টায় কলেজের অধ্যক্ষ ও অ্যালামনাই এসোসিয়েশনের আহবায়ক প্রফেসর ড. মুহম্মদ আলাউদ্দিন খানকে অবসরজনিত মানপত্র ও স্মারক প্রদান, তিনটা ও চারটায় প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের স্মৃতিচারণ অনুষ্ঠিত হবে।
সন্ধ্যা সাড়ে পাঁচটায় অ্যাসোসিয়েশনের উপদেষ্ঠা, কার্যনির্বাহী কমিটি, প্রস্তুতি কমিটি, উপকমিটি পরিচিতি ও ফটোসেশন, সন্ধ্যা ছয়টায় কলেজের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা হবে। সন্ধ্যার পর কনসার্টে গান পরিবেশন করবেন জনপ্রিয় ব্যান্ড দল এ্যাসেজ (জুনায়েদ ইভান) ও স্মরুপ।
অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম সদস্য সচিব আব্দুল কাইয়ুম মিন্টু বলেন, প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মধ্যে দেশ-বিদেশ থেকে যারা রেজিস্ট্রেশন করেছেন তাদের মাঝে শুভেচ্ছা স্মারক (টি শার্ট, ক্যাপ, ম্যাগাজিন, কলম, আইডি কার্ড) প্রদান করা হয়েছে। অনুষ্ঠানের দিন নির্ধারিত কার্ডধারীরা টোকেনের মাধ্যমে মধাহ্নভোজ গ্রহণ করবেন।
শৃঙ্খলা উপ-কমিটির আহবায়ক রেজাউল আলম ভূঁইয়া খোকন বলেন, অনুষ্ঠান সফল করতে পূর্ণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কলেজের স্কাউট, রোভার স্কাউট, স্বেচ্ছাসেবী, পুনর্মিলনী বাস্তবায়নের বিভিন্ন উপ-কমিটির পাশাপাশি পুলিশ, সেনাবাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থাসহ সকলের সার্বিক সহযোগিতায় সুশৃঙ্খলভাবে উক্ত অনুষ্ঠানের সফল সমাপ্তি হবে বলে আশাবাদী।
মিডিয়া ও প্রচার উপ-কমিটির আহবায়ক একেএম জাবের বলেন, ইতিমধ্যে আমাদের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানের সকল ইভেন্টের প্রচারে কুলাউড়ায় কর্মরত সকল সংবাদকর্মীদের সহযোগিতার জন্য মিডিয়া কমিটির পক্ষ থেকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি।
কলেজের অধ্যক্ষ ও অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক ড. মুহম্মদ আলাউদ্দিন খান বলেন, কলেজের প্রাক্তণ শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে আয়োজিত পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান এই জনপদে ইতিহাস তৈরি করবে। একদিন এই কলেজ অনেক দূর এগিয়ে যাবে। এই পুনর্মিলনীর মাধ্যমে কুলাউড়া সরকারি কলেজের সাবেক শিক্ষার্থীরা কলেজের উন্নয়ন, দরিদ্র শিক্ষার্থীদের সহায়তার পাশাপাশি সমাজের উন্নয়নে অবদান রাখবে বলে আমি আশাবাদী। পুনর্মিলনী থেকে অর্থ সাশ্রয় করে আমরা একটি তহবিল গঠনের উদ্যোগ নিয়েছি। পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান শেষে সবার মতামতের ভিত্তিতে এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।