মঙ্গলবার, ০৬ জানুয়ারি ২০২৬
মঙ্গলবার, ০৬ জানুয়ারি ২০২৬
✔ বাংলা টেক্সট কনভার্টার
শিরোনাম
advertisement
সিলেট বিভাগ

হবিগঞ্জে পুলিশকে হুমকি দেওয়া সেই মাহদী গ্রেফতারের নেপথ্যে কারন !

"আমরা থানা পুড়িয়ে দিয়েছি, এসআই সন্তোষকে জ্বালিয়ে দিয়েছি"—পুলিশের সামনে দাঁড়িয়ে এমন ঔদ্ধত্যপূর্ণ মন্তব্য করে দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হবিগঞ্জ জেলা সদস্য সচিব মাহদী হাসানকে গ্রেফতারের পর জামিন দিয়েছেন আদালত। রোববার (৪ জানুয়ারি) সকালে হবিগঞ্জ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত তার জামিন মঞ্জুর করেন।

এর আগে, শনিবার (৩ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় পুলিশের কাজে বাধা ও ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণের অভিযোগে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) তাকে গ্রেফতার করেছিল।

নেপথ্যে যা ছিল: ছাত্রলীগ নেতাকে ছাড়াতে থানায় হানা

পুলিশের প্রতিবেদনে জানা যায়, গত ২ জানুয়ারি রাত ১২টায় শায়েস্তাগঞ্জ থানা পুলিশ 'ডেভিল হান্ট (ফেইজ-২)' অভিযানের অংশ হিসেবে সদর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি এনামুল হাসান নয়নকে শায়েস্তাগঞ্জ থানার মামলা নং ০৪/২৪ ধারা-১৪৩/ ৩২৩/৩২৫/৩২৬/ ৩০৭/৪৩৫/৩৮০/ ৪২৭/ ১১৪ পেনাল কোড এর সন্দেহভাজন হিসেবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে। 

আটকের পর নয়নকে ছাড়িয়ে নিতে পরদিন শুক্রবার দুপুরে মাহদী হাসানের নেতৃত্বে ১৫-২০ জন নেতাকর্মী শায়েস্তাগঞ্জ থানার ওসির কক্ষে প্রবেশ করেন।

সেখানে নয়নকে 'জুলাই বিপ্লবের সম্মুখ সারির যোদ্ধা' দাবি করে তাকে ছেড়ে দিতে পুলিশকে চাপ প্রয়োগ করেন মাহদী। এক পর্যায়ে তিনি চিৎকার করে বলেন, "আমার ভাইকে কেন গ্রেফতার করা হয়েছে? আমরা কি ভাইসা আসছি নাকি? বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালীন বানিয়াচং থানা আমরাই পুড়িয়েছিলাম এবং এসআই সন্তোষকে আমরাই জ্বালাইয়া দিয়েছিলাম।"

ভিডিও ভাইরাল ও দেশজুড়ে তোলপাড়

থানার ভেতরে মাহদী হাসানের এই ঔদ্ধত্যপূর্ণ বক্তব্যের ভিডিও তার সঙ্গীরাই মোবাইলে ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেন। ভিডিওটি দ্রুত ভাইরাল হয়ে 'টক অব দ্য টাউন'-এ পরিণত হয়। বানিয়াচং থানায় হামলা ও পুলিশ হত্যার মতো গুরুতর অপরাধের দায় প্রকাশ্যে স্বীকার করায় সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়।

পুলিশের অ্যাকশন ও সংগঠনের ব্যবস্থা

জনমনে অসন্তোষের প্রেক্ষিতে শনিবার সন্ধ্যায় মাহদীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার ইয়াছমিন খাতুন জানান, সরকারি কাজে বাধা ও পুলিশের সাথে অসদাচরণের অভিযোগে মাহদীর বিরুদ্ধে শায়েস্তাগঞ্জ থানায় মামলা (নং-০১) দায়ের করা হয়েছে।

এদিকে, মাহদীর এই বিতর্কিত বক্তব্যের পর কেন্দ্রীয় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন থেকেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়। দপ্তর সম্পাদক শাহাদাত হোসেন স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে জানানো হয়, মাহদীর বক্তব্য সংগঠনের আদর্শের পরিপন্থী এবং ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে। তাকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ব্যাখ্যা প্রদান ও সকল কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়।

রাতভর উত্তেজনা ও জামিন

মাহদী গ্রেফতার হওয়ার পর তার সমর্থকরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আন্দোলনের ডাক দেন এবং সারারাত আদালত প্রাঙ্গণে অবস্থান নেন। রোববার সকাল সাড়ে ৮টায় তাকে আদালতে হাজির করা হলে শতাধিক নেতাকর্মীর উপস্থিতিতে শুনানি শেষে আদালত তার জামিন মঞ্জুর করেন।

মুক্ত হয়ে যা বললেন মাহদী

জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর মাহদী হাসান বলেন, "পুরো বাংলাদেশের বিপ্লবী ভাই ও জুলাই যোদ্ধারা যারা আমার পাশে দাঁড়িয়েছেন, আমি সবার প্রতি কৃতজ্ঞ। আপনাদের এই ঋণ আমি কোনোদিন শোধ করতে পারবো না।" হবিগঞ্জ জেলা বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের আহ্বায়ক আরিফ তালুকদার বলেন, "আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই মাহদীকে মুক্ত করে আনা হয়েছে।"

আদালতের পুলিশ পরিদর্শক আমিনুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছিল।

এই সম্পর্কিত আরো