বিয়ানীবাজার উপজেলায় পল্লীবিদ্যুতের চরম অবহেলায় বিদ্যুৎপৃষ্ট হয়ে এক যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। নিহত যুবকের নাম জাবেদ আহমেদ (৩০)। তিনি উপজেলার নয়া দুবাগ গ্রামের বাসিন্দা ও মৃত আব্দুল খালিক লন্ডনীর পুত্র। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী ও দুই সন্তান রেখে গেছেন। শনিবার দিবাগত রাতের কোনো এক সময় সড়কের পাশে পড়ে থাকা বিদ্যুতের লাইনে স্পৃষ্ট হয়ে জাবেদ আহমেদ ঘটনাস্থলেই মারা যান।
পরিবারের সদস্য ও উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি হারুনর রশীদ জানান, শনিবার সন্ধ্যা প্রায় ৭টার দিকে ওই এলাকায় বিদ্যুতের লাইন ছিঁড়ে পড়লে স্থানীয়রা বিষয়টি পল্লীবিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেন। তবে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও পল্লীবিদ্যুতের কোনো কর্মী ঘটনাস্থলে পৌঁছাননি। প্রায় রাত ১১টার দিকে তারা এলাকায় আসেন। পরবর্তীতে রাত আনুমানিক ২টার দিকে জাবেদের নিথর দেহ দেখতে পেয়ে বিয়ানীবাজার থানাকে অবহিত করা হয়।
তিনি পল্লীবিদ্যুতের অবহেলাকে দায়ী করে আরও বলেন, আমার ছোট ভাই জাবেদ রাতের আঁধারে বাড়ি ফিরছিল। অন্ধকারে পড়ে থাকা বিদ্যুতের লাইনের বিষয়টি সে বুঝতে পারেনি। পল্লীবিদ্যুত সময়মতো ব্যবস্থা নিলে আজ হয়তো আমার ভাই বেঁচে থাকত।
পল্লীবিদ্যুতের অবহেলার অভিযোগ নাকচ করে বিয়ানীবাজার জোনাল অফিসের এজিএম বলেন, ঘটনার বিষয়ে আমরা অবগত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। বিদ্যুতের লাইনে ত্রুটি দেখা দিলে আমাদের নির্ধারিত টিম পাঠানো হয়। এ ঘটনায় পল্লীবিদ্যুতের কোনো গাফিলতি ছিল না।
খবর পেয়ে বিয়ানীবাজার থানার ওসি মো. ওমর ফারুক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে উপ-পুলিশ পরিদর্শক গপেশ দাসসহ পুলিশের একটি দল লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে লাশ উদ্ধার করেন ওসি মো. ওমর ফারুক জানান, ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। আইনানুগ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।.
এদিকে জাবেদ আহমেদের অকাল মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। অসহায় হয়ে পড়েছে তার পরিবার, বিশেষ করে দুই অবুঝ সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।