আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট-১ আসনের প্রার্থীদের মধ্যে বছরে সবচেয়ে বেশি আয় করেন বিএনপির প্রার্থী, দলটির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তার বার্ষিক আয় প্রায় ৩৯ লাখ ২১ হাজার টাকা। অপরদিকে, এই আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাওলানা হাবিবুর রহমানের বার্ষিক আয় ২০ লাখ টাকার ওপরে।
গত মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে জমা দেয়া প্রার্থীদের হলফনামা বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য জানা গেছে।
সিলেট-১ আসনে এবার মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন ১০জন প্রার্থী। এরমধ্যে এই দুই প্রার্থীই বার্ষিক আয় সবচেয়ে বেশি।
আয় সবচেয়ে কম বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী) প্রার্থী সঞ্জয় কান্ত দাসের। টিউশনি পেশায় থাকা সঞ্জয়ের মাসিক আয় মাত্র ২৫ হাজার টাকা।
আয়ের মতো সম্পদের হিসাবে সবচেয়ে এগিয়ে আছেন বিএনপির প্রার্থী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদীর। তার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের মোট আর্থিক মূল্য প্রায় ২৫ কোটি ৮৫ লাখ টাকা।
অন্য প্রার্থীদের মধ্যে পেশায় আইনজীবী বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) প্রার্থী মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেনের বার্ষিক আয় ৯ লাখ টাকা। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী এহতেশামুল হক পরামর্শক হিসেবে দেশে ও বিদেশে আয় করেন ৯ লাখ ৮০ হাজার টাকা, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের প্রার্থী মো. শামীম মিয়ার আয় ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী তাজুল ইসলাম হাসানের ৬ লাখ ৪০ হাজার টাকা, ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মাহমুদুল হাসানের ৪ লাখ ১৪ হাজার ২৩৭ টাকা এবং গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী আকমল হোসেনের ৪ লাখ টাকা পেশায় আয়কর আইনজীবী বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) এর প্রার্থী প্রণব জ্যোতি পালের বার্ষিক আয় ৩ লাখ টাকা।
কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) প্রার্থী মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন যার মোট সম্পদ সাড়ে ৩ কোটি টাকার ওপরে। ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের মো. শামীম মিয়ার সম্পদ ২ কোটি ৩৪ লাখ এবং জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের মাওলানা হাবিবুর রহমানের ১ কোটি ৭৪ লাখ টাকার সম্পদ রয়েছে।
অন্যান্য প্রার্থীদের মধ্যে গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী আকমল হোসেনের সম্পদ ২১ লাখ, বাসদের প্রণব জ্যোতি পালের ১৮ লাখ ৫০ হাজার, ইসলামী আন্দোলনের মাহমুদুল হাসানের ২৪ লাখ, এনসিপির এহতেশামুল হকের ১৪ লাখ ৬০ হাজার, খেলাফত মজলিস তাজুল ইসলাম হাসানের ১৪ লাখ এবং বাসদ-মার্কসবাদীর সঞ্জয় কান্ত দাসের ৬ লাখ ১০ হাজার টাকার সম্পদ রয়েছে।
তবে এসকল প্রার্থীর মধ্যে সঞ্জয় কান্ত দাস ও মাহমুদুল হাসানের কোন স্থাবর সম্পত্তি নেই।
সিলেট-১ আসনের প্রার্থীদের মধ্যে ৯জন প্রার্থীই উচ্চ শিক্ষিত। তবে একজন প্রার্থী রয়েছেন ৮ম শ্রেণী পাশ।
শিক্ষাগত যোগ্যতার শীর্ষে আছেন বিএনপির খন্দকার আব্দুল মুক্তাদীর, সিপিবির মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, এনসিপির এহতেশামুল হক, জামায়াতের মাওলানা হাবিবুর রহমান ও খেলাফতের তাজুল ইসলাম হাসান। এদের মধ্যে মুক্তাদীর, আনোয়ার ও এহতেশাম স্নাতকোত্তর পাশ, হাবিবুর, কামিল ও তাজুল দাওরায়ে হাদীস।
অপরদিকে ইসলামী আন্দোলনের মাহমুদুল হাসান এবং বাসদ-এর প্রণব জ্যোতি পাল দুজনেই এলএলবি ডিগ্রীধারী। বাসদ-মার্কসবাদীর সঞ্জয় কান্ত দাস ও ইনসানিয়াতের শামীম মিয়া স্নাতক। গণঅধিকারের আকমল হোসেন ৮ম শ্রেণী পাশ। তবে প্রথাগত শিক্ষার বাইরে তিনি এডএক্সেল বিটেক লেভেল-৩ সম্পন্ন করেছন বলে হলফনামায় উল্লেখ করেছেন।