সিলেটের কানাইঘাটে মাদকসেবীদের ওপর মুখোশধারীদের হামলার ঘটনাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে নিরপরাধ ব্যক্তিদের মামলায় জড়িয়ে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। প্রকৃত হামলাকারীদের আসামি না করে স্থানীয় এক মাদ্রাসা শিক্ষকসহ একটি পরিবারের ৮ জনের বিরুদ্ধে এই মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা।
আজ রোববার (১৪ জুন) বিকেল ৩টায় কানাইঘাট প্রেসক্লাব কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষে উপজেলার তিনচটি নয়াগ্রামের ফরিদ আহমদের পুত্র রুমেল আহমদ এই অভিযোগ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে রুমেল আহমদ দাবি করেন, একই গ্রামের মৃত নুর উদ্দিনের পুত্র আবু লেইছ এলাকার একজন চিহ্নিত মাদকসেবী। দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় কিছু মাদকসেবী গাছবাড়ি পশ্চিম বাজার সংলগ্ন সামিট মাদ্রাসার পার্শ্ববর্তী একটি নির্জন স্থানে প্রতি রাতে মাদকের আড্ডা বসিয়ে আসছিল। এর বিরুদ্ধে স্থানীয় লোকজন সোচ্চার ছিলেন।
এমতাবস্থায়, গত ২৪ মে রাতে মুখোশধারী কে বা কাহারা ওই মাদকের আড্ডায় হামলা চালায়। হামলায় আবু লেইছ গুরুতর আহত হন। কিন্তু এই ঘটনাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে আবু লেইছ প্রকৃত হামলাকারীদের আড়াল করেন। উল্টো পূর্ব জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের টেনে প্রতিহিংসামূলকভাবে রুমেলের বাবা স্থানীয় মাদ্রাসা শিক্ষক ফরিদ আহমদ, চাচা দুলাল আহমদ, ফাহাদ আহমদ, জয়নাল উদ্দিন, সালেহ আহমদ এবং চাচাতো ভাই জাফর, সুফিয়ান ও ফয়ছলকে আসামি করে কানাইঘাট থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, আবু লেইছ গংদের সাথে ভুক্তভোগী পরিবারের দীর্ঘদিনের জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলছে। আবু লেইছ গংরা ইতিপূর্বে তাদের কৃষি জমির একটি অংশ জবরদখল করে নিয়েছে এবং আরও কিছু জমি দখলের পাঁয়তারা করছে। এর আগেও ভুক্তভোগীদের বিরুদ্ধে থানায় একাধিক মিথ্যা অভিযোগ দেওয়া হয়েছিল, যা পরবর্তীতে মিথ্যা প্রমাণিত হয়। এবার মাদকের আড্ডায় হামলার সুযোগটি কাজে লাগিয়ে এই মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।
রুমেল আহমদ বলেন, ‘এলাকার অনেকেই জানেন আবু লেইছ মাদক সেবনকালে মুখোশধারীদের হামলায় আহত হয়েছেন। অথচ মামলায় এসব তথ্য গোপন করে আমাদের পরিবারকে ধ্বংস করতে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে।’
সংবাদ সম্মেলন থেকে বিষয়টি অধিকতর তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত হামলাকারীদের চিহ্নিত করা এবং আহত হওয়ার মূল রহস্য উদঘাটন করে মিথ্যা মামলা থেকে রেহাই পেতে কানাইঘাট থানা পুলিশ ও সিলেটের উর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ ও আকুল আবেদন জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন তিনচটি নয়াগ্রামের আব্দুল মুতলিব, কুতুব উদ্দিন, আবু তাহের, সালেহ আহমদ এবং বীরদল আগকোপা গ্রামের আহমদ হোসেন।