এশিয়ার নারী ফুটবলের সর্বোচ্চ আসরে ইতিহাসের প্রথম ম্যাচ খেলতে নেমে শক্তিশালী চীন নারী ফুটবল দল-এর বিপক্ষে সাহসী লড়াই উপহার দিয়েছে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। অস্ট্রেলিয়ার সিডনি-র কমব্যাংক স্টেডিয়াম-এ মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত বি গ্রুপের ম্যাচে শেষ পর্যন্ত ২–০ গোলের ব্যবধানে জয় পায় বর্তমান চ্যাম্পিয়ন চীন। তবে স্কোরলাইনের চেয়েও বেশি আলোচনায় এসেছে বাংলাদেশের মেয়েদের লড়াকু পারফরম্যান্স।
ম্যাচের শুরু থেকেই অভিজ্ঞতা ও গতিময় ফুটবল প্রদর্শন করতে থাকে চীনের দল। প্রথমার্ধের শেষ মুহূর্তে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন তাদের তারকা ফুটবলার ওয়াং শুয়াং। খেলার ৪৪ মিনিটে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন তিনি। এরপর অতিরিক্ত সময়ে আরেকটি আক্রমণ থেকে গোল করেন ঝাং রুই। ফলে বিরতিতে যাওয়ার আগেই ২–০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় চীন।
দ্বিতীয়ার্ধে ভিন্ন চেহারায় মাঠে নামে বাংলাদেশের মেয়েরা। মাঝমাঠে মনিকা চাকমা, ঋতুপর্ণা চাকমা ও আফঈদা খন্দকার বল দখলে রেখে একাধিক আক্রমণ গড়ে তুললেও চীনের শক্ত রক্ষণভাগ শেষ পর্যন্ত ভাঙতে পারেনি তারা। তবুও সংগঠিত ডিফেন্স এবং গোলরক্ষকের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সেভ দর্শকদের দৃষ্টি কাড়ে।
স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে ছিল প্রবাসী বাংলাদেশিদের চোখে পড়ার মতো উপস্থিতি। লাল-সবুজ পতাকা হাতে সমর্থকদের উল্লাস, ঢাক-ঢোল ও স্লোগানে ম্যাচের পরিবেশ বারবার প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের ম্যাচ ঘিরে দক্ষিণ এশীয় দর্শকদের অংশগ্রহণ এবারের আসরে বিশেষ মাত্রা যোগ করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, র্যাংকিং ও অভিজ্ঞতায় অনেক এগিয়ে থাকা নয়বারের চ্যাম্পিয়ন চীনের বিপক্ষে বাংলাদেশের এই পারফরম্যান্স ভবিষ্যতের জন্য ইতিবাচক বার্তা দিয়েছে। আন্তর্জাতিক মঞ্চে প্রথম ম্যাচ হলেও খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাস ও দলগত সমন্বয় আশাবাদ তৈরি করেছে।
এই ম্যাচের মধ্য দিয়েই এশিয়ার শীর্ষ ফুটবল আসরে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক যাত্রা শুরু হলো। যদিও ফলাফল অনুকূলে আসেনি, তবে সিডনির মাঠে লড়াই করে বাংলাদেশের মেয়েরা প্রমাণ করেছে—তারা শুধু অংশ নিতে নয়, প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতেই এসেছে। এখন সামনে আরও কঠিন চ্যালেঞ্জ। গ্রুপ পর্বের পরবর্তী ম্যাচগুলোতে ঘুরে দাঁড়িয়ে ইতিবাচক ফল আনাই লক্ষ্য বাংলাদেশের।
অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশি সমর্থকদের প্রত্যাশা, অভিষেক ম্যাচের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে পরবর্তী ম্যাচগুলোতে আরও আত্মবিশ্বাসী ফুটবল উপহার দেবে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।