ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনী হাওয়া বইতে শুরু করেছে। আগামী ৮ এপ্রিল নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা এবং ১২ মে ভোটগ্রহণের তারিখ নির্ধারিত হওয়ায় সিলেট বিভাগের রাজনৈতিক অঙ্গন এখন সরগরম। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও তৃণমূলের আলোচনায় সবার উপরে উঠে এসেছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব, বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম আবুল হারিছ চৌধুরীর কন্যা ব্যারিস্টার সামিরা তানজিন চৌধুরীর নাম।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সিলেট বিভাগ থেকে দুই জন নারী সংসদ সদস্য মনোনয়ন পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই দৌড়ে সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলা থেকে প্রায় এক ডজন নেত্রী সক্রিয় থাকলেও আলোচনায় সবচেয়ে শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছেন ব্যারিস্টার সামিরা তানজিন চৌধুরী।
ব্যারিস্টার সামিরা কেবল একজন রাজনীতিবিদের উত্তরসূরিই নন, তিনি একজন আন্তর্জাতিকভাবে প্রশিক্ষিত আইনজীবী। ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের সিনিয়র কোর্টের প্র্যাকটিসিং সলিসিটর হিসেবে তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে; মানবাধিকার, সিভিল লিটিগেশন ও গভর্ন্যান্স বিষয়ে বিশেষজ্ঞ হিসেবে তিনি ব্রিটিশ সরকারের গভর্নমেন্ট লিগাল ডিপার্টমেন্ট এ দীর্ঘদিন কাজ করেছেন। তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মতে, বুনিয়াদি পারিবারিক ঐতিহ্য ও একাধারে জাতীয়তাবাদী ভাবমূর্তির একনিষ্ঠ ধারক হিসেবে তার পরিবারের রাজনৈতিক ঐতিহ্য, তদুপুরি শিক্ষাগত যোগ্যতায় সামিরা অন্য প্রার্থীদের চেয়ে এগিয়ে; তাঁর মতো একজন উচ্চশিক্ষিত ও পেশাদার ব্যক্তিত্বকে সংসদে পাঠালে তা হবে বিএনপির এক আধুনিক ও বলিষ্ঠ পদক্ষেপ।
দীর্ঘ দেড় দশকের দুঃশাসনে হারিছ চৌধুরী পরিবারের ওপর নেমে আসা জুলুম-নির্যাতনের মধ্যেও সামিরা তানজিন চৌধুরী বাবার আদর্শ থেকে বিচ্যুত হননি। ২০২১ সালে দেশে ফিরে বাবার মৃত্যু ঘিরে ওঠা বিতর্ক ও প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যে তিনি যে ধৈর্য ও সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন, তা তৃণমূলের আস্থার প্রতীক হয়ে উঠেছে। গত জাতীয় নির্বাচনে সিলেট-৫ আসন থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে তিনি আলোচনায় এলেও দলের বৃহত্তর স্বার্থে তিনি জোট প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেছেন। জাতীয় গণমাধ্যম ও টেলিভিশন টক-শোতে বিএনপির রাষ্ট্র সংস্কারের ‘৩১ দফা’ যৌক্তিকভাবে তুলে ধরে তিনি দলের অভ্যন্তরে এবং সাধারণ মানুষের কাছে প্রশংসা কুড়িয়েছেন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ব্যারিস্টার সামিরাকে ঘিরে ব্যাপক জনমত তৈরি হয়েছে। শহীদ ওয়াসিম ব্রিগেড সিলেটের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাংবাদিক নিজাম উদ্দিন টিপু লিখেছেন, তারুণ্য, মেধা আর আস্থার নাম ব্যারিস্টার সামিরা তানজিন চৌধুরী। সিলেটের জকিগঞ্জ-কানাইঘাটের মানুষের প্রিয় মুখ তিনি। সংসদে আমাদের কথা তুলে ধরার জন্য তাঁর মতো একজন উচ্চশিক্ষিত ও প্রগতিশীল নেত্রীর প্রয়োজন।
সিলেট বিভাগ থেকে সংরক্ষিত আসনের জন্য আরও বেশ কয়েকজন হেভিওয়েট নেত্রীর নাম শোনা যাচ্ছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় স্থানীয় সরকার বিষয়ক সহ-সম্পাদক ও সাবেক এমপি শাম্মী আক্তার, যুক্তরাজ্য বিএনপির সাবেক সভাপতি মরহুম কমর উদ্দিনের কন্যা সাবিনা খান পপি। এছাড়াও আলোচনায় আছেন—গুম হওয়া ছাত্রদল নেতা ইফতেখার হোসেন দিনারের বোন তাহসিন শারমিন তামান্না, সাবেক প্যানেল মেয়র অ্যাডভোকেট রোকসানা বেগম শাহনাজ, অ্যাডভোকেট হাদিয়া চৌধুরী মুন্নি, সামিয়া বেগম চৌধুরী, জেবুন নাহার সেলিম এবং সালমা নজির।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিএনপির হাইকমান্ড এবার সংরক্ষিত আসনে পরীক্ষিত নেতৃত্বের পাশাপাশি শিক্ষিত ও নতুন প্রজন্মের নেতৃত্বের সমন্বয় ঘটাতে পারে। সে ক্ষেত্রে ব্যারিস্টার সামিরা তানজিন চৌধুরীর পারিবারিক ঐতিহ্য এবং ব্যক্তিগত মেধা তাঁকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে।
সিলেটের জকিগঞ্জ ও কানাইঘাটসহ তৃণমূলের সাধারণ মানুষের দাবি—উন্নয়নে পিছিয়ে পড়া এই অঞ্চলের মানুষের স্বপ্ন পূরণে এবং সংসদে বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর হিসেবে ব্যারিস্টার সামিরা তানজিন চৌধুরীকেই যেন দলের পক্ষ থেকে মনোনয়ন দেওয়া হয়।