'জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার)' বাস্তবায়ন আদেশের বিষয়ে যথাযথ প্রতিকার না পাওয়া এবং আইনমন্ত্রী কর্তৃক বিরোধীদলীয় নেতাকে 'মিসকোট' বা ভুলভাবে উদ্ধৃত করার প্রতিবাদে সংসদ অধিবেশন থেকে ওয়াকআউট করেছেন বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যরা।
বুধবার (১ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ষষ্ঠ দিনে এই ঘটনা ঘটে।
বিকেলে সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বের পর বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, "গতকাল আমরা যে এজেন্ডা উপস্থাপন করেছিলাম, তা ছিল মূলত গণভোট এবং সেই গণভোটে সংস্কারের যে প্রস্তাব গিয়েছিল, তার আলোকে গঠিত পরিষদের সভা আহ্বান প্রসঙ্গে।"
আগেরদিন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কর্তৃক উত্থাপিত প্রস্তাবের পুনরুক্তি করে তিনি বলেন, "যেহেতু আলোচনা হয়েছে সংস্কার পরিষদের ওপর, তাই একে কেন্দ্র করে যদি কোনো বিশেষ কমিটি গঠিত হয়, তবে আমরা তা ইতিবাচকভাবে ভেবে দেখব। তবে সেই কমিটিতে সরকারি দল এবং বিরোধী দল থেকে সমান সংখ্যক সদস্য নিতে হবে, তবেই কমিটি অর্থবহ হবে।"
স্পিকারকে উদ্দেশ্য করে শফিকুর রহমান আরও বলেন, "যেহেতু এটি জনআকাঙ্ক্ষার বিষয়, আমরা প্রত্যাশা করেছিলাম আপনার মাধ্যমে প্রতিকার পাব। আমি সিদ্ধান্তের জন্য আপনার কাছে আহ্বান জানিয়েছিলাম। কিন্তু কোনো সিদ্ধান্ত হলো কি না, আমি বুঝতে পারি নাই। এ বিষয়টি আপনার কাছ থেকে আমি স্পষ্ট জানতে চাই।"
জবাবে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, "বাংলাদেশের ৫৩ বছরের সংসদীয় ইতিহাসে মাত্র তিনটি মূলতবি প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে। বছরের পর বছর চলে যায়, কোনো মূলতবি প্রস্তাব সংসদে গৃহীত হয় না। তারপরও প্রাণবন্ত আলোচনার জন্য ডেপুটি স্পিকারের সভাপতিত্বে মূলতবি প্রস্তাবটি গ্রহণ করা হয়েছিল।"
স্পিকার আরও উল্লেখ করেন, "যে সমস্যার সমাধান কেবল আইন প্রণয়নের মাধ্যমেই করা সম্ভব, সেটি নিয়ে মূলতবি প্রস্তাব হতে পারে না। তারপরও উদারভাবে বিরোধী দলকে কথা বলার সুযোগ দেওয়ার জন্য এটি গ্রহণ করা হয়েছে।"
স্পিকারের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, "আমরা প্রতিকার চেয়েছিলাম। এ বিষয়টি কোনো দলের সাথে সম্পৃক্ত না। যে বিষয়টিতে নির্বাচনের আগে সরকারি ও বিরোধী দল সবাই একমত হয়েছিলাম এবং স্বপক্ষে প্রচারণা করেছিলাম; সেখানে প্রতিকার না পাওয়ায় দেশবাসীর রায়ের সঠিক মূল্যায়ন হলো না। আমরা বিরোধী দলে বসে জনগণের এই অবমূল্যায়ন মেনে নিতে পারি না। এর প্রতিবাদে আমরা ওয়াকআউট করছি।"
বিরোধীদলীয় নেতার এই ঘোষণার পর তার নেতৃত্বাধীন ১১ দলের সংসদ সদস্যরা সংসদ কক্ষ ত্যাগ করেন।
উল্লেখ্য, 'জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ-২০২৫' অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বানের দাবিতে বিরোধীদলীয় নেতার আনিত মূলতবি প্রস্তাবের ওপর গতকাল দিনের সর্বশেষ বিষয় হিসেবে সংসদে দুই ঘণ্টা প্রাণবন্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছিল।