পেট্রোল পাম্পে ‘ট্যাগ অফিসার’ নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। জ্বালানি তেলের স্বাভাবিক সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং অবৈধ মজুত ও কৃত্রিম সংকট রোধে কাজ করবেন এই কর্মকর্তারা। এর জন্য ১৩টি কাজকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। কাজগুলা হলো—
১. ফিলিং স্টেশনের দৈনিক প্রারম্ভিক মজুত রেকর্ডভুক্ত করা।
২. ডিপো থেকে সরবরাহকৃত জ্বালানি তেল স্ব স্ব ফিলিং স্টেশনে উপস্থিত হয়ে পরিমাপপূর্বক গ্রহণ করা এবং ফিলিং স্টেশনের পে-অর্ডার ও ডিপোর চালান/ রিসিটের সাথে তেলের পরিমাণ মিলিয়ে দেখা।
৩ .স্ব স্ব ফিলিং স্টেশনে ডিপ লোড/ডিপ স্টোকের মাধ্যমে সরবরাহকৃত জ্বালানি তেল বুঝে নেওয়া।
৪. ফিলিং স্টেশনে সংরক্ষিত রেজিস্ট্রারে ডিপো থেকে দৈনিক জ্বালানি তেল গ্রহণের হিসাব লিপিবদ্ধ হয়েছে কি না, তা মনিটর করা।
৫. ফিলিং স্টেশনের ডিসপেন্সিং মেশিনের দৈনিক মিটার রিডিং সংক্রান্ত রেজিস্ট্রার পর্যবেক্ষণ করে দৈনিক বিক্রয়ের সাথে মিলিয়ে দেখা।
৬. দৈনিক বিক্রি শেষে ফিলিং স্টেশনের সমাপনি মজুত পর্যালোচনা।
৭. ফিলিং স্টেশনের ডিসপেন্সিং মেশিনের পরিমাপ যথাযথ হচ্ছে কি না, তা নিয়মিত তদারকি করা।
৮. ফিলিং স্টেশন অনুমোদনপ্রাপ্তির সময় বিস্ফোরক পরিদপ্তর হতে অনুমোদিত লে-আউট প্ল্যানে পণ্যভিত্তিক মজুত ক্ষমতার তথ্য এবং বিদ্যমান মজুত ক্ষমতার তথ্য যাচাই করা।
৯. ফিলিং স্টেশনের আশপাশে অননুমোদিত কোনো ট্যাংক/স্থাপনা আছে কি না, তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা।
১০. ডিপো থেকে-পাম্প ও পাম্প থেকে ভোক্তা সরবরাহব্যবস্থা দৃশ্যমান করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা।
১১. প্রতিটি ডিপো, ট্যাংকার, পাম্প ও খুচরা বিক্রির তথ্য একত্রে পর্যবেক্ষণ করা এবং প্রতিটি পাম্পে দিনে অন্তত তিনবার (সকাল, দুপুর, সন্ধ্যা) স্টক আপডেট বাধ্যতামূলক করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা।
১২. ডিপো থেকে জ্বালানি নেওয়ার পর নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে খুচরা বিক্রি শুরু না করলে তা লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য করতে হবে। উদাহরণস্বরূপ, জ্বালানি গ্রহণের এক ঘণ্টার মধ্যে বিক্রি শুরু বাধ্যতামূলক করতে হবে। প্রথমবার সতর্কতা, দ্বিতীয়বার মোবাইল কোর্ট, তৃতীয়বার সাময়িক স্থগিতাদেশ ইত্যাদির জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
১৩. পাম্প খোলা আছে কি না, স্টক রেজিস্টার সঠিক আছে কি না, ডিসপ্লে বোর্ড আছে কি না, ক্যাশ মেমো দেওয়া হচ্ছে কি না, নির্ধারিত সীমা মানা হচ্ছে কি না, কনটেইনারে অবৈধ বিক্রি হচ্ছে কি না, সারি ব্যবস্থাপনা কেমন—এসব বিষয় জিও-ট্যাগ প্রমাণসহ রিপোর্ট করা।