শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬
শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬
✔ বাংলা টেক্সট কনভার্টার
শিরোনাম
advertisement
জাতীয়

ইউপিডিএফ নেতা মাইকেল চাকমা গ্রেপ্তার

পার্বত্য চট্টগ্রামের আঞ্চলিক রাজনৈতিক সংগঠন ইউপিডিএফের সংগঠক মাইকেল চাকমাকে চট্টগ্রাম মহানগরী থেকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব। শুক্রবার (১৩ মার্চ) রাতে বন্দরের পোর্ট কলোনি এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র নিশ্চিত করেছে।

সূত্র জানায়, একটি মামলায় আদালতের রায়ে আট বছরের সশ্রম কারাদণ্ডপ্রাপ্ত হওয়ায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। চট্টগ্রামভিত্তিক র‍্যাব-৭ এর একটি দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে। পরে তাকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তরের প্রস্তুতি নেওয়া হয়।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০০৭ সালের ৩০ অক্টোবর নিরাপত্তা বাহিনী মাইকেল চাকমা ও সুমন চাকমাকে আটক করে। অভিযোগ ছিল, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা ও চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত থাকার সময় তাদের আটক করা হয়। এ ঘটনায় লংগদু থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে গত বছর রাঙামাটির অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালত ওই মামলায় মাইকেল চাকমাকে আট বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

‘গুম’ থেকে ফেরার পর নতুন গ্রেফতার নিয়ে প্রশ্ন

মাইকেল চাকমাকে গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও পার্বত্য অঞ্চলের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন—যে ব্যক্তি কয়েক বছর ধরে গুমের শিকার ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে, তাকে আবার গ্রেপ্তার করার ঘটনায় নতুন বিতর্ক তৈরি হতে পারে।

২০১৯ সালে রহস্যজনক নিখোঁজ

মাইকেল চাকমা পার্বত্য চট্টগ্রামের আঞ্চলিক রাজনীতিতে পরিচিত একজন সংগঠক। তিনি ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (UPDF)-এর সংগঠক এবং আদিবাসী অধিকার আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

২০১৯ সালের ৯ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জের কাঞ্চপুর এলাকা থেকে ঢাকায় যাওয়ার পথে তিনি রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হন। এরপর দীর্ঘদিন তার কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। পরিবার ও সংগঠনের নেতারা অভিযোগ করেছিলেন, তাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তুলে নিয়ে গুম করেছে। তার সন্ধান চেয়ে বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন, পাহাড়ি রাজনৈতিক সংগঠন এবং আন্তর্জাতিক মহলেও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।

পাঁচ বছর পর ফিরে আসা

মহাসড়কের কাঁচপুর এলাকা থেকে তাকে সাদা পোশাকের একদল লোক তুলে নিয়ে যায়। এরপর দীর্ঘ ৫ বছর ৪ মাস তার কোনো হদিস ছিল না। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর বারবার আকুতি সত্ত্বেও তৎকালীন সরকার তার নিখোঁজের বিষয়টি অস্বীকার করে আসছিল। ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার মহাবিপ্লবের পর আয়নাঘরের গোপন রহস্য উন্মোচিত হলে গত বছরের ৭ আগস্ট চট্টগ্রামের একটি জঙ্গল থেকে তাকে চোখ বাঁধা অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। ফিরে আসার পর তিনি অসুস্থ অবস্থায় ছিলেন এবং দীর্ঘদিন গোপন আটক থাকার অভিযোগ তোলেন বলে তার ঘনিষ্ঠরা জানিয়েছিলেন।

নতুন করে আলোচনায়

গুম থেকে ফেরার পর আবার গ্রেফতারের ঘটনাকে ঘিরে পার্বত্য রাজনীতি এবং মানবাধিকার ইস্যুতে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই বিষয়টিকে ‘বিতর্কিত’ বলে মন্তব্য করছেন। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্র বলছে, আদালতের রায় বাস্তবায়ন এবং বিচারিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

পর্যবেক্ষকদের মতে, পার্বত্য চট্টগ্রামের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব, বিভিন্ন মামলা এবং অতীতের গুমের অভিযোগ—সব মিলিয়ে মাইকেল চাকমাকে ঘিরে পরিস্থিতি আবারও আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে।

এই সম্পর্কিত আরো