শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬
শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬
✔ বাংলা টেক্সট কনভার্টার
শিরোনাম
advertisement
জাতীয়

রাষ্ট্রপতিকে বিচারের আওতায় আনার দাবি জুলাই ঐক্যের

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সাংঘর্ষিক ফ্যাসিবাদী কর্মকাণ্ডের দায়ে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের অভিশংসন এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছে জুলাই ঐক্য। একই সঙ্গে গণহত্যার সহযোগী হিসেবে রাষ্ট্রপতিকে বিচারের আওতায় আনার দাবিও জানিয়েছে তারা।

শুক্রবার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানায় সংগঠনটি।

সংবাদ সম্মেলনে জুলাই ঐক্যের সংগঠক ফাহিম ফারুকী বলেন, দীর্ঘদিন ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রামের পর ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটে। সেই গণঅভ্যুত্থানে সরকারের গুলিতে ১৪০০-এর বেশি ছাত্র-জনতা নিহত হয় এবং হাজার হাজার মানুষ পঙ্গুত্ব বরণ করে। অথচ সেই সরকারের নিয়োগকৃত রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে ভাষণ দিয়ে ‘জনতার সংসদকে অপবিত্র’ করেছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি বলেন, গণঅভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্রপতি একাধিকবার শপথ ভঙ্গ করেছেন এবং গণমাধ্যমে দেওয়া বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে অসত্য তথ্য দিয়েছেন। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, ২০২৪ সালের অক্টোবরে জুলাই ঐক্য বঙ্গভবন ঘেরাও করতে যায়। অথচ জুলাই ঐক্যের আত্মপ্রকাশ ঘটে ২০২৫ সালের মে মাসে। এমন অসত্য তথ্য দিয়ে দেশে বিভ্রান্তি ও বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে জুলাই ঐক্যের নেতারা দাবি করেন, শহীদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে গঠিত বর্তমান সংসদে ‘গণহত্যাকারী সরকারের নিয়োগপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির’ ভাষণ দেওয়া গ্রহণযোগ্য নয়। তারা অভিযোগ করেন, রাষ্ট্রপতিকে সংসদে ভাষণ দেওয়ার সুযোগ করে দিয়ে সরকারি দল বিএনপি জুলাইয়ের চেতনা ও শহীদদের আত্মত্যাগের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে।

তারা বলেন, ত্রয়োশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর দুটি শপথ গ্রহণের সুযোগ দেওয়া হলেও বিএনপি সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ না নিয়ে উল্টো রাষ্ট্রপতিকে দিয়ে ভাষণ করিয়েছে। এর মাধ্যমে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্পিরিটের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তারা।

সংগঠনটির নেতারা সরকারের প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, ছাত্র-জনতার তাজা রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে আজকের সংসদ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। জুলাইয়ের আন্দোলন না হলে বর্তমান ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক নেতৃত্বের অনেকেই দেশে ফিরতে পারতেন না বা রাজনীতিতে সক্রিয় থাকতে পারতেন না। সেই জুলাইকে অস্বীকার করা হলে তার পরিণতি ভয়াবহ হবে বলে মন্তব্য করেন তারা।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, অবিলম্বে সংবিধানের ৫২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী গুরুতর অসদাচরণ ও সংবিধান লঙ্ঘনের দায়ে সংসদের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে অভিশংসন করে পদ থেকে অপসারণ করতে হবে। পাশাপাশি গণহত্যার সহযোগী হিসেবে তাকে বিচারের আওতায় আনতে হবে।

এছাড়া যারা এখনও সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ করেননি, তাদের দ্রুত চলতি অধিবেশনে শপথ নিয়ে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদী কাঠামোর বিলুপ্তি ঘটানোর আহ্বান জানায় জুলাই ঐক্য। অন্যথায় ছাত্র-জনতাকে সঙ্গে নিয়ে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়।

সংবাদ সম্মেলনে জুলাই ঐক্যের সংগঠক কবি মুন্সি বুরহান মাহমুদ, আসমাউল হুমসান, আব্দুল কাশেম অর্পিতা, মুসা, সাবিত প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এই সম্পর্কিত আরো