ভালো নেই বিএনপি চেয়ারপারসন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। নীরবে শরীরে বাসা বেঁধেছে কঠিন রোগ। ফুসফুস ও বুকের সংক্রমণ নিয়ে তিনি ভর্তি রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে। হাসপাতালের করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) মেডিকেল বোর্ডের দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে তার চিকিৎসা চলছে। নানা রোগে আক্রান্ত ৮০ বছরের সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী এখন চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। চিকিৎসকদের উদ্ধৃতি দিয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, তার (খালেদা জিয়া) শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটময়। শারীরিক অবস্থা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন। পরিস্থিতি গুরুতর হওয়ায় দলের নেতাদের পাশাপাশি বহু কর্মীও হাসপাতালে গিয়ে তাঁর শারীরিক অবস্থার খবর নিচ্ছেন।
শুক্রবার (২৯ নভেম্বর) রাত সোয়া ১১টার দিকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান হাসপাতালে পৌঁছান। একই সময়ে দলের আরও কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতার গাড়ি হাসপাতালের সামনে প্রবেশ করতে দেখা যায়। বিএনপি এবং এর অঙ্গসংগঠনের কয়েকজন নেতাকর্মীও বাইরে অপেক্ষা করছিলেন। তাঁদের উদ্দেশ্য ছিল শুধু চেয়ারপারসনের শারীরিক অবস্থার আপডেট জানা। ঘটনাস্থলে কয়েকটি গণমাধ্যমের প্রতিনিধিকেও দেখা গেছে।
খালেদা জিয়া বহুদিন ধরেই হৃদ্রোগ, ডায়াবেটিস, আর্থ্রাইটিস, লিভার সিরোসিস এবং কিডনি জটিলতাসহ নানা শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন। রোববার শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে তাঁকে দ্রুত এভারকেয়ার হাসপাতালে আনা হয়। পরে চিকিৎসকেরা নিশ্চিত করেন যে তাঁর ফুসফুস ও হৃদ্যন্ত্রে সংক্রমণ ধরা পড়েছে।
প্রতিদিন নিয়ম করে হাসপাতালে যাচ্ছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের একান্ত সচিব এবিএম আব্দুস সাত্তার। শুক্রবার রাতে বলেন, ‘ম্যাডামের অবস্থা আগের মতোই। তেমন কোনো উন্নতি নেই। এখনো সিসিইউতেই আছেন। ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. জাহিদ হোসেন হাসপাতালে আছেন সার্বক্ষণিক। আমার সঙ্গে চিকিৎসকদের যতটা কথা হয়েছে-তারা জানিয়েছেন ম্যাডামের অবস্থা ভালো নয়। সবাই দোয়া করবেন।’
তিনি জানান, চিকিৎসকদের পরামর্শে ম্যাডামের জন্য প্রতিদিন গুলশানের বাসা থেকেই খাবার পরিবেশন করা হচ্ছে। ম্যাডামের সঙ্গে তার ছোট পুত্রবধূ সৈয়দা শর্মিলা রহমান সার্বক্ষণিক থাকছেন। এছাড়া গৃহপরিচালিকা ফাতেমা ও স্টাফ রূপা আক্তার সঙ্গে আছেন।
খালেদা জিয়া চিকিৎসার প্রয়োজনে ৭ জানুয়ারি লন্ডনে যান এবং সেখানে ১১৭ দিন থাকার পর গত ৬ মে দেশে ফেরেন। ফেরার পর থেকে তাঁকে বিভিন্ন সময়ে নানা শারীরিক জটিলতার কারণে হাসপাতালে যেতে হয়েছে।