ইরান যুদ্ধের প্রভাব ক্রমবর্ধমান হওয়ায় অস্ট্রেলিয়ায় জ্বালানি সংকট তীব্র আকার নিচ্ছে। এই সংকট মোকাবেলায় রাজ্য ও অঞ্চলের নেতারা জাতীয় প্রতিক্রিয়ার সমন্বয় নিয়ে বৈঠকে বসবেন। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট চলমান জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় দ্বিতীয়বারের মতো জাতীয় মন্ত্রিসভার বৈঠক ডেকেছেন প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ।
গতকাল বুধবার (২৫ মার্চ) নিশ্চিত করেছে দেশটি।
অস্ট্রেলিয়া জুড়ে প্রায় ৫২০টি পেট্রোল স্টেশনে অন্তত একটি ধরনের জ্বালানি শেষ হয়ে গেছে। অনেক পেট্রোল স্টেশনে ডিজেলের দাম লিটার প্রতি প্রায় ৩.১৫ ডলারের বেশি পৌঁছে গেছে। এর ফলে পণ্য পরিবহন থেকে শুরু করে বর্জ্য সংগ্রহ পর্যন্ত বিভিন্ন পরিষেবার সরবরাহও হুমকির মুখে পড়েছে।
গত সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রী রাজ্যগুলোর উপর জ্বালানি বিতরণের দায়িত্ব অর্পণ করেছিলেন। রাজ্য প্রধানরা স্থানীয় সরবরাহ ঘাটতি মোকাবিলায় জাতীয় সমন্বয়ের নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য ফেডারেল সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
অস্ট্রেলিয়ান ইন্ডাস্ট্রি গ্রুপ জাতীয় মন্ত্রিসভার কাছে রেশনিং, জ্বালানি শুল্ক হ্রাস এবং গণপরিবহনে ছাড়ের বিষয়টি বিবেচনার জন্য আহ্বান জানিয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ বুধবার সংসদে বলেন, প্রকৃতপক্ষে এই কার্যক্রমের সমন্বয় করা গুরুত্বপূর্ণ, যাতে আমাদের জাতীয় সামঞ্জস্য থাকে।
গত সপ্তাহে জাতীয় মন্ত্রিসভায় জ্বালানি নিরাপত্তা এবং সরবরাহ শৃঙ্খল বিষয়ে রাজ্যগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করার জন্য ফুয়েল সাপ্লাই টাস্কফোর্স কো-অর্ডিনেটর অ্যানথিয়া হ্যারিসকে নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেলের একটি গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালীতে ইরানের অবরোধের পর থেকে বিশ্বজুড়ে জ্বালানির দাম তীব্রভাবে বেড়েছে। পেট্রোলের অতিরিক্ত মূল্য আদায়ের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে নতুন আইন সংসদে পাস করেছে সরকার।
প্রধানমন্ত্রী বার্তা দিয়েছেন, অন্যায়কারী সংস্থার জন্য শাস্তির পরিমাণ দ্বিগুণ করা হচ্ছে, কারণ অস্ট্রেলীয়দের স্বার্থের বিনিময়ে মুনাফা বাড়ানোর কোনো অজুহাত থাকতে পারে না।
জ্বালানি মন্ত্রী ক্রিস বোয়েন ফেডারেল সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে জানান, বর্তমানে সারাদেশে ৫২০টি পেট্রোল স্টেশনে অন্তত একটি ধরনের জ্বালানি শেষ হয়েছে।
জ্বালানির চাপ কমাতে সরকারের কাছে বেশ কয়েকটি বিকল্প রয়েছে, যার মধ্যে স্বেচ্ছামূলক পদক্ষেপ উৎসাহিত করাও অন্তর্ভুক্ত। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেছেন যে এখনই সেগুলোর প্রয়োজন নেই। ক্রমবর্ধমান জ্বালানি মূল্য ও ঘাটতি বিভিন্ন শিল্পকে ব্যাহত করছে এবং ভোক্তাদের ওপর মূল্য বাড়িয়ে দেওয়ার চাপ সৃষ্টি করছে। তাই দ্বিতীয়বারের মতো জরুরি জাতীয় মন্ত্রিসভার বৈঠক ডাকা হয়েছে।
জ্বালানি মন্ত্রী নিশ্চিত করেছেন যে, অস্ট্রেলিয়াগামী বাতিল হওয়া ছয়টি তেল ট্যাংকারের পরিবর্তে সরকার নতুন ট্যাংকার পাঠিয়েছে এবং অতিরিক্ত তিনটি ট্যাংকারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।