অর্থনৈতিক সংকট ও মুদ্রার অবমূল্যায়নের জেরে ইরানে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। রাজধানী তেহরান ছাড়াও বুরুজের্দ, আরসানজান ও গিলান-এ-ঘার্বসহ বিভিন্ন শহরে বহু মানুষ রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। এই প্রেক্ষাপটে ইরানের প্রধান বিচারপতি গোলাম হোসেইন মোসেনি বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে কড়া অভিযোগ তুলেছেন। তিনি বলেন, যারা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে বা তা সমর্থন করছে, তারা মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের স্বার্থে কাজ করছে। সড়কে অশান্তি ও অনিরাপত্তা সৃষ্টিকারীদের কোনোভাবেই ক্ষমা করা হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
আল জাজিরা এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, বিক্ষোভ প্রশমনে সরকার সীমিত সহায়তা হিসেবে প্রতি পরিবারকে মাসিক প্রায় ৭ ডলার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কর্তৃপক্ষের দাবি, এই অর্থ মৌলিক খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতির চাপ কিছুটা কমাতে সহায়ক হবে।
গত মাসে তেহরানের গ্র্যান্ড বাজারে মুদ্রার অবমূল্যায়ন ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদ থেকে বিক্ষোভের সূত্রপাত হয়, যা দ্রুত অন্যান্য শহরে ছড়িয়ে পড়ে। বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, এসব বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত অন্তত ৩৬ জন নিহত হয়েছেন এবং প্রায় ২ হাজার সাধারণ মানুষ গ্রেপ্তার হয়েছেন।
এদিকে ইরানের সেনাবাহিনীর প্রধান মেজর জেনারেল আমীর হাতামি বলেছেন, যেকোনো আগ্রাসীর বিরুদ্ধে কঠোর জবাব দেওয়া হবে এবং দেশের সামরিক প্রস্তুতি আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী। অপরদিকে, সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি যুক্তরাষ্ট্রের হুমকির জবাবে বলেছেন, ইরান শত্রুর সামনে কখনোই মাথা নত করবে না।