মঙ্গলবার, ০৬ জানুয়ারি ২০২৬
মঙ্গলবার, ০৬ জানুয়ারি ২০২৬
✔ বাংলা টেক্সট কনভার্টার
শিরোনাম
advertisement
আন্তর্জাতিক

যেভাবে তুলে নেওয়া হলো প্রেসিডেন্ট মাদুরোকে

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরো এবং তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে ধরতে এক শ্বাসরুদ্ধকর ও দুঃসাহসিক অভিযান চালিয়েছে মার্কিন সেনারা। অত্যন্ত গোপনীয়তা ও নিখুঁত পরিকল্পনায় পরিচালিত এই অভিযানের নাম দেওয়া হয়েছিল ‘অপারেশন অ্যাবসলিউট রিজলভ’। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি তত্ত্বাবধানে ডেল্টা ফোর্সসহ এলিট সেনাদের সম্মিলিত এই অভিযানে গত কয়েক দশকের মধ্যে অন্যতম বড় সামরিক চমক দেখাল যুক্তরাষ্ট্র।

আকস্মিক মনে হলেও এই অভিযানের প্রস্তুতি চলছিল গত কয়েক মাস ধরে। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ’র একটি বিশেষ দল গত আগস্ট মাস থেকেই ভেনেজুয়েলায় অবস্থান করছিল। তারা মাদুরোর জীবনযাত্রা ও গতিবিধি সম্পর্কে সূক্ষ্ম তথ্য সংগ্রহ করে। এমনকি মাদুরোর ঘনিষ্ঠ বৃত্তের একজন ‘অ্যাসেট’ বা তথ্যদাতা মার্কিন বাহিনীর কাছে তার প্রতিটি মুহূর্তের অবস্থান পরিষ্কার করেছে।

পেন্টাগনের সামরিক পরিকল্পনাকারীরা যুক্তরাষ্ট্রের কোনো এক গোপন স্থানে মাদুরোর ‘সেফ হাউস’-এর একটি হুবহু প্রতিকৃতি তৈরি করেছিলেন। সেখানে ডেল্টা ফোর্সের সদস্যরা দিনের পর দিন মহড়া দিয়েছে, কীভাবে সুরক্ষিত দুর্গের ইস্পাতের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করতে হবে।

অভিযানটি পরিচালনার জন্য ট্রাম্পের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ চার কর্মকর্তার একটি ‘কোর টিম’ গঠন করা হয়েছিল। এতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ সহযোগী স্টিফেন মিলার, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এবং সিআইএ পরিচালক জন র‍্যাটক্লিফ।

গত মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) ট্রাম্প এই অভিযানের অনুমোদন দিলেও আবহাওয়া অনুকূলে আসার জন্য কয়েক দিন অপেক্ষা করা হয়। অবশেষে শুক্রবার রাত ১০টা ৪৬ মিনিটে জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইনকে চূড়ান্ত সবুজ সংকেত দেন ট্রাম্প। ফ্লোরিডার মার-আ-লাগো ক্লাবে বসে সরাসরি সম্প্রচারের মাধ্যমে পুরো অভিযান পর্যবেক্ষণ করেন প্রেসিডেন্ট।

শনিবার (৩ জানুয়ারি) ভোরে অভিযান শুরুর আগে ক্যারিবীয় অঞ্চলে বিশাল সামরিক শক্তি মোতায়েন করে পেন্টাগন। একটি বিমানবাহী রণতরি, ১১টি যুদ্ধজাহাজ এবং ১৫ হাজারের বেশি সেনা জড়ো করা হয়। আকাশপথ সুরক্ষিত করতে পশ্চিম গোলার্ধের ২০টি ঘাঁটি থেকে এফ-৩৫, এফ-২২ এবং বি-১ বোম্বারসহ প্রায় ১৫০টি যুদ্ধবিমান অংশ নেয়। মার্কিন সেনারা কারাকাস ও এর আশপাশের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে জ্যামিং প্রযুক্তির মাধ্যমে অকেজো করে দেয় এবং নির্দিষ্ট কিছু সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁত হামলা চালায়।

শুক্রবার (২ জানুয়ারি) রাত ১টার দিকে মার্কিন স্পেশাল ফোর্সের সদস্যরা হেলিকপ্টারে করে কারাকাসের কেন্দ্রে মাদুরোর সুরক্ষিত বাসভবনে পৌঁছায়। স্থানীয়দের ধারণ করা ভিডিওতে দেখা যায়, নিচ দিয়ে উড়ে যাচ্ছে হেলিকপ্টার বহর।

ভবনে প্রবেশের সময় মার্কিন সেনারা ব্যাপক প্রতিরোধের মুখে পড়ে। তবে অত্যাধুনিক ব্লোটর্চ ব্যবহার করে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই ভবনের ইস্পাতের দরজা কেটে ভেতরে ঢুকে পড়ে তারা। ট্রাম্পের ভাষ্যমতে, মাদুরো একটি ‘সেফ রুমে’ পালানোর চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু মার্কিন সেনারা এত দ্রুত সেখানে পৌঁছায় যে তিনি দরজা বন্ধ করার সুযোগ পাননি।

সিএনএন-এর তথ্য অনুযায়ী, মধ্যরাতে ঘুমন্ত অবস্থায় মাদুরো ও তার স্ত্রীকে বিছানা থেকে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যায় মার্কিন কমান্ডোরা। অভিযান শেষে তাদের চোখ বেঁধে ও হাতকড়া পরিয়ে একটি উভচর যুদ্ধজাহাজ ‘ইউএসএস আইও জিমা’-তে নিয়ে যাওয়া হয়।

অভিযান সফল হওয়ার পর ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ডোনাল্ড ট্রাম্প উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, ‘আমি অনেক ভালো অভিযান সম্পন্ন করেছি, কিন্তু এমন কিছু আগে কখনও দেখিনি।’ পরে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ হাতকড়া পরা ও চোখ বাঁধা অবস্থায় মাদুরোর একটি ছবি পোস্ট করে তিনি এই আটকের খবর নিশ্চিত করেন।

এই অভিযানে কয়েকজন মার্কিন সেনা আহত হলেও কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। বর্তমানে মাদুরো ও তার স্ত্রী মার্কিন সামরিক হেফাজতে রয়েছেন।

এই সম্পর্কিত আরো